হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশগামী রেডিমেড গার্মেন্টসের রপ্তানি পণ্যের চালান থেকে ৩৯ হাজার ইয়াবা জব্দ করার ঘটনায় আট জন গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছয় জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ইয়াবা চালানের প্রধান হোতার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলেও গতকাল পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।
তদন্ত সূত্র জানায়, জব্দকৃত ইয়াবার ক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ টাকা। কিন্তু বিক্রির টার্গেট ছিল ৪ কোটি টাকা। একটি চক্র সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালনটি সংগ্রহ করেছিল। এ চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে নিয়মিতভাবে ইয়াবার চালান বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের মধ্যে করে বিদেশ পাঠাচ্ছিল।
গত ১৫ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি চালানের ৪৩৯টি কার্টনের তিনটিতে সোয়েটারের পকেটে ইয়াবার প্যাকেটগুলো রাখা ছিল। ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল খিলগাঁও পশ্চিমপাড়া। আর আমদানিকারক হিসেবে লেখা রয়েছে সৌদি আরবের অ্যাপারিজ ইন্টারন্যাশনাল ইস্ট, যেখানে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে রিয়াদের আল ওয়াজির ট্রেডিং সেন্টার। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্ত করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো গোয়েন্দা বিভাগ।
তদন্ত সূত্র জানায়, ইয়াবা চালানোর সঙ্গে জড়িত আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে লিমন সরকার, আবু শামিম, ফিরোজ আহমেদ, মনির হোসেন, মাহবুব হোসেন ও ইকরামুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিরা সবাই কারাগারে রয়েছেন।
সূত্র জানায়, সংঘবদ্ধ একটি চক্র অনেক দিন ধরে বিভিন্ন দেশে ইয়াবা চালান পাঠাচ্ছে। করোনার কারণে যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধ থাকায় চক্রটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ইয়াবার চালান পাঠাচ্ছে। ইতিমধ্যে সাতটি চালান আটক করা হয়েছে। তদন্ত সূত্র জানায়, জব্দ করা ৩৯ হাজার ইয়াবার ক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ টাকা। কিন্তু এ চালান বিক্রির টার্গেট ছিল ৪ কোটি টাকা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হেলাউদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ইয়াবার চালান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেছে। ইয়াবার চালানের মূল হোতাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) শামিম আহমেদ বলেন, ইয়াবার চোরাচালানিরা সুপরিকল্পিতভাবেই ইয়াবার চালান মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। এরসঙ্গে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির সঙ্গে জড়িত একটি চক্র রয়েছে।
৩৯ হাজার ইয়াবা জব্দের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ চালানটি বুকিং দিয়ে ছিলেন গ্রেফতারকৃত লিমন সরকার ও ইকরামুল। আর বুকিং গ্রহণ করেছিলেন মাহবুব হোসেন। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, লিমন সরকার যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, সে প্রতিষ্ঠানের নামে বুকিং দেননি। তিনি অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে বুকিং দিয়েছিলেন। তবে তার দেওয়া তথ্য মতে তদন্ত চলছে। খুব দ্রুত সময়ে পেছনের মূল হোতাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
