পঞ্চগড়ে মায়ের মৃত্যুশোকে দুই মেয়ের মৃত্যু

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ২২:২৩

মায়ের মৃত্যুশোক সইতে না পেরে দুই মেয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের কুমারপাড়া খলিফাপুর এলাকায়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।

মৃতরা হলেন পঞ্চমীর ছোট মেয়ে চৈতি রানী (৩০) ও বড় মেয়ে স্বরজনী বালা (৫০)। চৈতি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ফাড়াবাড়ি এলাকার পলাশ চন্দ্র রায়ের স্ত্রী। আর স্বরজনী বালা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার সুশীল চন্দ্র রায়ের স্ত্রী।

মায়ের সঙ্গে দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শোকে মুহ্যমান স্বজন ও এলাকাবাসী। 

চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল জানান, গত মঙ্গলবার বার্ধক্যজনিত কারণে রাম কিশোর বর্মণের স্ত্রী পঞ্চমী বেওয়া (৯০) মারা যান। তাকে দেখতে তার ছয় মেয়েসহ স্বজনরা বাসায় আসেন। দিনভর কান্নাকাটি করতে থাকেন সন্তানেরা। বিকালে পঞ্চমীর লাশ বাড়ির পাশের শ্মশানে সত্কার করা হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে বাড়ি ফেরার সময় হঠাত্ পঞ্চমীর ছোট মেয়ে চৈতি রানী বুকে ব্যথা অনুভব করেন। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান হারান। তাত্ক্ষণিক তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তার বড় বোন স্বরজনী বালাসহ স্বজনরা যান। পথে স্বরজনী বালাও বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং একইভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মাইক্রোবাসে তাদের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।