যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন

যুবলীগ মানুষের কল্যাণে কাজ করবে :শেখ পরশ

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ২২:২৬

জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনাসভাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উদ্যাপন করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বর্ণিল শোভাযাত্রাসহ যুবলীগের নেতাকর্মীরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আসেন। সকাল ১০টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘আগামীর যুবলীগ হবে একটি মেধাসম্পন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতাসম্পন্ন সংগঠন। শিক্ষিত ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে গঠিত সংগঠন। এখানে কোনো অনুপ্রবেশকারী, দুষ্কৃতকারী, দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবাজদের ঠাঁই হবে না। যুবলীগ মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর শহিদ শেখ ফজলুল হক মনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ যুবলীগ মোকাবিলা করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের গত বছর কাউন্সিলের মাধ্যমে একটা ক্রাইসিস মুহূর্তে দায়িত্ব দেন। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করতে যাচ্ছেন, সেখানে যুবলীগ নিবেদিত থাকবে। যুবলীগ এলিট শ্রেণির সংগঠন নয়। যুবলীগ হচ্ছে শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের রাজনৈতিক সংগঠন।’ যুবলীগের চেয়ারম্যান বলেন, “ব্যক্তিগত কোনো লোভ-লালসা থেকে যুবলীগ করতে আসিনি। যুবলীগকে ‘সাফ’ করার জন্য, এগিয়ে নেওয়ার জন্য এসেছি। আমরা রাজনীতির মূলনীতিতে ফিরে যেতে চাই, যার একটি হচ্ছে মানুষের সেবা করা, অন্যটি হচ্ছে অন্যায়ের প্রতিবাদ।’ যুবলীগের চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংগঠনের সব স্তরের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

যুবলীগে অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘কোনো অনুপ্রবেশকারী সংগঠনে ঢুকে পড়লে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমাদের কাছে দিতে পারেন। আমাদের একটা গঠনতন্ত্র আছে। সামনে একটা কার্যপ্রণালি তৈরি করব। আমি মনে করি, অনুপ্রবেশকারী বা কোনো দুষ্কৃতকারীর ব্যাপারে সাংবাদিক বন্ধুদেরও ভূমিকা রয়েছে। তারা যদি আমাদের সামনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেন, পুলিশ প্রশাসন যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে দিতে পারে, তাহলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেব। বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করব না।’

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা যুবকদের ঐক্যবদ্ধ করে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করছি। সব বিতর্ক মুছে যুবলীগকে গণমানুষের কল্যাণমুখী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাসভীরুল হক অনু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাঈন উদ্দিন রানা, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকশ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর মধ্যে সাদা ছড়ি, পক্ষাঘাত প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।