এমপি পাপুলসহ পরিবারের চার জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ২২:২৯

অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল পরিবারের চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ উপপরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাপুলের শ্যালিকা জেসমিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অপর তিন জন হলেন— মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম, তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও কন্যা ওয়াফা ইসলাম।

আসামিদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকা লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জেসমিনের পাঁচটি হিসাবের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত লন্ডারিং হয় ১৪৮ কোটি টাকা। অথচ মাত্র বয়স ২৩ বছর বয়সি জেসমিনের নিজের কোনো আয়ের উত্স নেই। এর আগে গত মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে অনুসন্ধান কর্মকর্তার প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতারণার আশ্রয়  নিয়ে আসামি জেসমিন তার জন্ম তারিখের তথ্য গোপন করে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর হতে পাসপোর্ট গ্রহণ ও তার নিজ নামে অপরাধলব্ধ ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অস্থাবর সম্পদ অবৈধ উপায়ে অর্জন করে তা নিজের ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। অপর দিকে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থ জেসমিন, শহিদ, সেলিনা ও ওয়াফা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে জমা করেন। এরপর তারা উক্ত এফডিআরসমূহের বিপরীতে আসামি জেসমিনের নামীয় ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে ২৫ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকার লোন এগেইন্সট এফডিআর (ওভার ড্রাফট) সুবিধা গ্রহণের সুযোগ করে দেন। এরপর পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যাংকে জেসমিনের নিজ নামে ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামীয় ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২০১২ সালের ২ জুন হতে ২০২০ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে জেসমিনের অপরাধলব্ধ বর্ণিত ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭ টাকাসহ তাদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত মোট ১৪৮ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬১ টাকা জমা ও ১৪৮ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৮ টাকা উত্তোলন করেন। পরে তা বৈধ করণের লক্ষ্যে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করে অবস্থান গোপন করার মাধ্যমে আসামিগণ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।