রায়হান হত্যার একমাস পূর্তিতে বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে আলোক প্রজ্বলন 

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ০০:৫৪

রায়হান আহমদ হত্যার একমাস পূর্তিতে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে আলোক প্রজ্বলন করেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা। বুধবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই কর্মসূচী পালন করা হয়। গত ১১ অক্টোবর এই ফাঁড়িতেই নির্যাতনে নিহত হন রায়হান আহমদ। 

আলোক প্রজ্বলনের আগে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা বলেন, ঠিক এক মাস আগে এই ফাঁড়িতে রায়হান আহমদে ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বহিষ্কৃত এসআই আকবর হোসেনকে গ্রেফতার করায় আমরা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে আটকের পর আকবরই জানিয়েছেন, তাকে সিনিয়র অফিসাররা পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা এই সিনিয়র অফিসারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

বক্তারা বলেন, কেবল একজন এসআই আকবর বা বন্দরবাজার ফাঁড়ির কয়েকজন পুলিশ সদস্যই নয়, রায়হান হত্যাসহ নগরের পুলিশ ফাঁড়িগুলোতে চলা বিভিন্ন অনিয়ম, অত্যাচার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জড়িত। পুলিশকে কলঙ্কমুক্ত ও জনবান্ধব করতে হলে এই চক্রের মূল হোতাকে উৎখাত করা আবশ্যক। তারা বলেন ঐ চক্রকে গ্রেফতার করা না হলে রায়হান হত্যার সুষ্ঠ বিচার সম্ভব হবে না।

আরো পড়ুনঃ চলতি মাসেই পূরণ হচ্ছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ৪৮ শূন্য পদ 

কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে রায়হানের ছোট ভাই রাব্বি আহমদ তানভির বলেন, আমার ভাইকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে আর কেউ যেনো এরকম বিনাবিচারে হত্যার শিকার না হয়। এ জন্য এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের সবাইকে গ্রেফতার করতে হবে।

রাব্বি বলেন, আকবরকে গ্রেফতার করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম এখনও উদ্ধার করা হয়নি। সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব শেষে পুলিশ ফাঁড়ির দেয়ালে আলোক প্রজ্বলন করা হয়। ছোট ভাই রাব্বি আহমদ তানভীর ছাড়াও এই কর্মসূচীতে রায়হানের পরিবারের পক্ষে অংশ নেন রায়হানের খালা ফাহমিদা ইসলাম, খালাতো ভাই পাভেল আহমদ ও খালাতো বোন আমেনা বেগম।

আলোচনা পর্বে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি সিকন্দর আলী, আদিবাসী নেতা গৌরাঙ্গ পাত্র, প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী এডভোকেট মহিতোষ দেব মলয়, সমাজকর্মী নিগাত সাদিয়া। বক্তব্য রাখেন সংগঠক আব্দুল করিম কীম, আশরাফুল কবির, দেবাশীষ দেবু, রাজীব রাসেল, দেবব্রত চৌধুরী লিটন প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এমএএম