মুজিববর্ষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল সিরিজ

প্রায় ১১ মাস পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ২০:১৬

শেষ বার গত জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে মাঠে নেমে ছিল বাংলাদেশ ফুটবল দল। সেমিফাইনাল পর্যন্ত ফিরতে হয়েছে জামাল ভুঁইয়াদের। করোনার কারণে ফুটবল দুনিয়া বন্ধই ছিল। আবার সেই দুনিয়া খুলছে।

বাফুফে বেশ সাহস করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করেছে। এই করোনার সময় নেপালকে ঢাকায় এনে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করার চাট্টেখানি কথা নয়। স্বয়ং ফিফা বাফুফের সাহস দেখে খুশি হয়েছে। নেপাল বাংলাদেশ দুই ম্যাচ সিরিজের টওয়ার ওয়ান স্বীকৃতি দিয়েছে। আর বাফুফে এই দুটি ম্যাচকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর নামে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার প্রথম ম্যাচের পর ১৭ নভেম্বর নেপালের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে।

গত ২৩ অক্টোবর ফুটবলারদের অনুশীলন শুরু হয়েছে। বাফুফে অনুশীলনের জন্য কোচিং স্টাফদের বহর এনে নিয়েছে। খেলোয়াড়রা যেন খুব দ্রুত নিজেদের ফিটনেস নিয়ে একটা ভালো জায়গা দাঁড়াতে পারে। জেমি ডে বললেন,‘ ছেলেরা নিজেদের অল্প সময়ের মধ্যেই সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা ম্যাচ খেলতে মুখিয়ে আছি। এখন নেপালের বিপক্ষে ম্যাচগুলো কাতার ম্যাচের প্রস্তুতি ম্যাচ হয়ে গেছে। হয়তো আগে নেপালের বিপক্ষে পারফর্ম করা, তাদের হারিয়ে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি করাই ছিল মুল লক্ষ্য। কিন্তু এখন লক্ষ্যটা হয়ে দাঁড়িয়েছে কাতার ম্যাচের জন্যে ২৩-২৫ সদস্যের দল তৈরি করা। 

এখন আমাদের হাতে দুটো ম্যাচ আছে, কিছু খেলোয়াড়কে মাঠে সময় দেয়া যাবে। কাতারের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দোহায় আরো দুটো প্রস্তুতি ম্যাচ পাবো আমরা। সেগুলো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে যেন হয়, ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে চাই। যাতে করে আমাদের খেলোয়াড়দের ভালো পরীক্ষাটা নিশ্চিত করা যায়। ফলাফলটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। জয়, ড্র কিংবা হার; এসব হিসেবের উপরে উঠে এখন আমাদের লক্ষ্য কাতার ম্যাচের জন্যে নিজেদের সেরা অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। এই চার ম্যাচে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কাতারের বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করাতেই পূর্ণ মনোযোগ আমাদের।’ 

জামাল ভুঁইয়া  বললেন,‘অনেক দিন পর আবারও মাঠে নামছি। আমরা নিজেদের সামর্থ্যের চূড়ায় উঠতে না পারিনি এখনো। তবে তিন সপ্তাহ ধরে কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আমরা আজ ম্যাচে জিততে পারবো।

২০১১, ২০১৩, ২০১৮ সাফে শেষ তিন দেখায় বাংলাদেশ হেরেছে যথাক্রমে ০-১, ০-২, ০-২ ব্যবধানে। গেল বছর ডিসেম্বরে কাঠমান্ডু এসএ গেমসেও অনূর্ধ্ব-২৩ দল ১-০ গোলে হেরেছে। ২০১৬ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে গ্রুপ পর্বে ০-০ ড্র হয়েছিল। শেষ তিন হারের ম্যাচ খেলেছেন জামাল ভুঁইয়া, তার কাছে তাই আজকের ম্যাচটা শুধু প্রীতি বা করোনাকালে ফুটবলে ফেরা নয়, প্রতিশোধের ম্যাচ, সেটি বলেছেনও গণমাধ্যম পর্বে, ‘নেপালের কাছে তিনটা ম্যাচ টানা হেরেছি আমি, প্রতিশোধ নিতে চাই-বললেন জামাল ভুঁইয়া।

নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ জয় পেয়েছিল ২০১৬ শিলং-গৌহাটি এসএ গেমসে ২-০ গোলে, জাতীয় দল জিতেছে ২০১৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে ১৮ মিনিটে শাখাওয়াত রনির একমাত্র গোলে। এবার নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলারর চাইছেন নতুন কিছু উপহার দিতে।

ইত্তেফাক/এসআই