জীবন পূর্ণ করো ভরাও প্রাণ সৃজনে

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ২১:০২

চাঁদপুরের সন্তান প্রণব মজুমদার। মেঘনার ঢেউ গুণে বেড়ে ওঠা তাঁর। তিনি লেখক ও সাংবাদিক। প্রণবের লেখার জগত্টা বহুমুখী। প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও গল্প লিখছেন সমান্তরালভাবে। ছড়া, কবিতায়ও তাঁর সফল পদচারণা। এই মারির কালে এই লেখকের কলমে সাহিত্য ধরা দিয়েছে বর্ণাঢ্য সৃজনশীলতায়। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে গল্পের ইশকুল (শিশুতোষ), জীবনের গল্প (স্মৃতিকথা), বিস্মৃত পলক (গল্পগ্রন্থ), ভুবনজয়ী তারকা (সাক্ষাত্কার), পদ্য গদ্যের অবয়ব (প্রবন্ধ), স্বনির্বাচিত নিবন্ধ (প্রবন্ধ) ও কবিতার বাড়ি (কাব্যগ্রন্থ)।

বিস্ময়কর বটে! এর আগে আছে তিনটি গ্রন্থ—হুলস্থুল (গল্পগ্রন্থ), টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে (ছড়াগ্রন্থ) ও সুখ দুঃখের পদাবলি (কাব্যগ্রন্থ)। তাঁর লেখায় যাপিত জীবনের এক বহমান আখ্যান পরিব্যাপ্ত। সাম্যের জয়গান তাঁর সাহিত্যে পরস্ফুিট। আছে প্রাণময়তা আর সঘন রসবোধ। ভাষাভঙ্গি নির্মেদ গতিশীল। লেখকের আন্তরিক পর্যবেক্ষণ দরদি যথোপযুক্ত কথামালার বুননে হয়ে ওঠে মানসম্পন্ন সাহিত্যকর্ম। বেশ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। খেলাঘর, উদীচী, চাঁদের হাটও আছে। লেখার জগতে আগমন শৈশব থেকে। দৈনিক সংবাদ-এ ১৯৭৮ সালে তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। পেশা সাংবাদিকতা। ‘অর্থকাগজ’ নামের পাক্ষিকের সম্পাদক ও প্রকাশক। পেশাজীবী ও শিক্ষা, সামাজিক ও সাহিত্যের অনেক সংগঠনের সফল সংগঠক তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শ্রেণিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক। প্রণব মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর। নৃত্যকলা এবং ফাইন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টসে স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে।

লেখক বেড়ে উঠেছেন পারিবারিক সুশিক্ষা ও সংস্কৃতিসমৃদ্ধ পরিমণ্ডলে। মা নীলিমা মজুমদার শিক্ষিতা ও স্বীকৃত রত্নগর্ভা। এন্ট্রান্স পাশ করে এই জননী দশটি সন্তানের দেখভাল করেও সমাজের বহুজনকে শিক্ষালাভে সহযোগিতা করেছেন। পিতা বিশিষ্ট চিকিত্সক ড. কালী কৃষ্ণ মজুমদার ছিলেন অবিভক্ত বাংলার ত্রিপুরা জেলার বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী। ব্রিটিশবিরোধী ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক। কন্যা প্রমিতি পুত্র প্রত্যয় এবং সাহিত্য সমঝদার সহধর্মিণী মারিয়া সাহাকে নিয়ে তাঁর যাপিত জীবনের পথচলা। 

এই লেখক-সাংবাদিকের জন্ম ১৫ নভেম্বর। পঞ্চাশ অতিক্রম করেছেন! তাঁর সামাজিক যোগাযোগ বেশ বিস্তৃত এবং নিবিড়। প্রণব মজুমদারের মনোযোগ কৌতূহল বলতে পারি মানবজীবনের অন্ধি-সন্ধিতে। প্রকৃতি, বিজ্ঞান ইত্যকার বিষয় তাঁর মননের অনুকূল প্রেক্ষাপট। পরিপূর্ণ জীবনবোধ নিত্যদিনের জীবন জিজ্ঞাসা তাঁর সাহিত্যের অসামান্য সংযোজন। যে কারণে সাহিত্য পাকাধানের মৌতাতে আর প্রাজ্ঞজনের ঘামের নোনায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। যাপিত জীবনের রথযাত্রায় শৈশব থেকে তিনি ছুটছেন—ঘর্মাক্ত লড়াইয়ে লেখক পিছিয়ে যাননি। নিয়ত লড়াইয়ে উতরে গেছেন তিনি বলা যায়।

সামনে রয়েছে নব্য আলোকজ্জ্বল পথের চিহ্ন। স্বপ্নগুলো পূর্ণ হোক। সুস্থ, সুন্দর সৃজনশীল হোক সামনের দিনগুলো। প্রতিদিনের সূর্যোদয় সফল হোক। মাতৃভূমির ঋণ শোধ হবার নয়! তবু থাকুক অপার প্রেম।