সুইজারল্যান্ড :সর্বোচ্চ ন্যূনতম মজুরির যাত্রারম্ভ

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ২০:৩৭

শফিকুর রহমান রয়েল

 

জেনেভাকে সবাই ধনীদের জায়গা হিসেবেই জানে। জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থা, নিলাম হাউজ সোদবি ও ক্রিসলির ঠিকানা হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের এ শহরটি। এখানে নিয়মিতই রত্নপাথর বিক্রি হয় দুই চোখকে কপালে উঠিয়ে দেওয়া মূল্যে। পর্যটকদের চুম্বকের মতো আকর্ষণ করা এ দেশে চলতি মাস থেকে শুরু হয়েছে ধরার সর্বোচ্চ ন্যূনতম মজুরি। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এক সংশোধনী ভোটের ফলাফলের কারণেই এমন ব্যবস্থা। ঘণ্টাপ্রতি কোনো শ্রমিককে ২৩ সুইস ফ্রাংকের কম মজুরি দেওয়া যাবে না, যা কিনা ১৯ পাউন্ড, ২৫ মার্কিন ডলার ও ২২ ইউরোর সমান। কিন্তু সংশোধনী ভোটের ফলাফলের পরও প্রশ্ন উঠছে—ন্যূনতম মজুরি এত বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন ছিল কিনা?

সুইজারল্যান্ড সম্পদশালী রাষ্ট্র, এতে কোনো সন্দেহ নেই; কিন্তু এ কথাও তো সত্য যে ওখানে লাখ লাখ হেটেল শ্রমিক, ওয়েটার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নরসুন্দরদের বসবাস। তারা জীবনযাপন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খান। গত মার্চে লকডাউনে যাওয়ার পর ফুড ব্যাংকগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের লম্বা লাইন খবরের শিরোনাম হয়েছিল। বস্তুত সেখানে করোনা প্রাদুর্ভাবের আগেও ফুড ব্যাংকের অস্তিত্ব ছিল এবং এখনো আছে। পার্থক্য শুধু এটুকুই—তখন এবং এখন খুব বড় লাইন চোখে পড়ে না। চার্লি হার্নান্দেজের কোর্লস ডু কোয়ের নামক চ্যারিটি এখন পর্যন্ত একটি ফুড ব্যাংক থেকে প্রতি সপ্তায় কয়েক হাজার ব্যাগ নিত্যপণ্য সরবরাহ করে থাকে। বর্তমানে খুব বড় লাইন চোখে না পড়লেও ছোটখাটো ভিড় লেগেই থাকে। এর মধ্যে বেশির ভাগইর থাকে নারী। অনেকের সঙ্গেই থাকে আবার তাদের শিশুসন্তান।

ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর বিষয়টিকে ব্যবসায়ীরা অবশ্য ইতিবাচক মনে করছেন না। তারা মনে করছেন, করোনার এ মাঝামাঝি সময়ে ভালোর চেয়ে মন্দই বেশি বয়ে আনবে। সবচেয়ে বেশি বেজার হয়েছেন রেস্টুরেন্টের মালিকরা। আগে প্রধান শেফকে যে পারিশ্রমিক দিতে হতো, এখন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকেই প্রায় সেরকম বেতন দিতে হবে। তার মতে এতে রেস্টুরেন্ট ও হোটল ব্যবসায় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। কিন্তু সর্বোপরি কারোরই আর কিছু করার নেই। সংশোধনীতে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর পক্ষে ভোট পড়েছে ৫৮ শতাংশ, আর বিপক্ষে পড়েছে ৪২ শতাংশ। সরাসরি গণতন্ত্রের দেশ সুইজারল্যান্ডে ভোটের ফলাফল না মেনে কোনো উপায় নেই। —বিবিসির তথ্য