নুহাশ পল্লীতে কেক কেটে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদ্যাপন

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ২১:৪০

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও লেখক হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্ম দিনে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে তার কবরের পাশে গতকাল শুক্রবার মানুষের ঢল নামে। নানা বয়সি হুমায়ূনভক্ত সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করে নুহাশ পল্লীতে। শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে হুমায়ূন আহমেদের হাতে গড়া নুহাশ পল্লীতে হাজার মোমবাতি প্রজ্বলন করে পুরো নুহাশ পল্লীকে আলোকিত করেন নুহাশ পল্লীর কর্মকর্মা-কর্মচারীরা। রাতেই হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নুহাশপল্লীতে আসেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং কবরের পাশে ফাতেহা পাঠ, কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করেন। এসময় নুহাশ পল্লীর কর্মচারী ও অসংখ্য হুমায়ূনভক্ত উপস্থিত ছিলেন।

কবর জিয়ারত শেষে নুহাশ পল্লীতে হোয়াইট হাউজের পাশে স্থাপিত হুমায়ূন আহমেদের ম্যুরালের সামনে আপেলতলায় হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিনের কেক কাটেন তার দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত। এসময় শতাধিক হুমায়ূনভক্ত, গণমাধ্যমকর্মী ও নুহাশ পল্লীর কর্মচারীরাসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকাল থেকেই হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা নুহাশ পল্লীতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তারা তাদের প্রিয় লেখকের কবরে ফুল দেন এবং নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। ভক্তরা দিনভর তাদের প্রিয় লেখকের হাতে গড়া নুহাশ পল্লী ঘুরে ঘুরে দেখেন।

লেখকের স্বপ্ন ধীরে ধীরে পূরণ হচ্ছে জানিয়ে লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন, নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে এই সময়ের তরুণ ও যুবকরা হুমায়ূন আহমেদের লেখা পাঠ করছেন এবং তার লেখার ভেতরকার রস, বোধ ও মানবিকতার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন এটা বিস্ময়কর।

উল্লেখ্য, সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে তাকে সমাহিত করা হয়।