উপজেলার বুড়িমারীতে আবু ইউনুছ মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় এবার মসজিদের মুয়াজ্জিন আফাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার সকালে ইসলামপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এনিয়ে হত্যা মামলায় ১৯ জন ও এ ঘটনায় তিনটি দায়েরকৃত মামলায় মোট ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হলো। গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, পাটগ্রাম থানায় নিহতের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলামের দায়ের করা হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ১০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে মোয়াজ্জিন আফাজ উদ্দিনসহ অপর ৯ আসামির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।
জানা গেছে, তিন মামলায় গ্রেফতার ৩৩ জনের মধ্যে ১০ জনকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে ৯ জনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। জুয়েল হত্যা ও পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ১ নম্বর আসামি ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আবুল হোসেন ওরফে হোসেন আলীর পাঁচ দিনের রিমান্ড শুক্রবার শেষ হয়। আজ শনিবার তাকে আদালতে তোলা হবে।
পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, মিথ্যা অভিযোগে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা ও তার লাশ আগুনে ভস্ম করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভিডিওচিত্র দেখে এবং তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত ২৯ অক্টোবর বুড়িমারী কেন্দ্রীয় মসজিদে আসরের নামাজ শেষে মানসিক অসুস্থ রংপুরের আবু ইউনুছ মো. সহিদুন্নবী জুয়েলের বিরুদ্ধে ‘কোরআন অবমাননার’ গুজব ছড়ানো হয়। পরে পিটিয়ে হত্যার পর সন্ধ্যায় লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।
