ইসরাত জাহান চৈতী
বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়ে গেছে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ। আবার অনেক দেশে চলছে দ্বিতীয় ওয়েভ মোকাবিলার জোর প্রস্তুতি। এর ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। গত মার্চের মাঝামাঝি করোনা ভয়াবহতার কারণে বন্ধ হয়ে যায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর কিছু দিন পর দেশে জারি করা হয় লকডাউন। ফলে দেশের প্রায় সব ধরনের কর্মক্ষেত্রগুলোতেও জারি হয় লকডাউন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয় অনলাইন ক্লাস, আবার অনেকেরই করতে হয় বাসা থেকে অফিস।
পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দেশের বিভিন্ন বেসরকারি চাকরিজীবীদের করতে হচ্ছে বাসা থেকে অফিস। এর ফলে তারা নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে ডিজিটাল প্রযুক্তিমাধ্যমগুলোতে। অনলাইন ক্লাসের সুবাদে প্রায় সব বয়সি শিক্ষার্থীরাও অবাধে ব্যবহার করছে মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব ইত্যাদি প্রযুক্তিমাধ্যমগুলো। বাসা থেকে অফিস করার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে ল্যাপটপ।
তাছাড়া অনেক সময় ধরে বাসায় থাকার কারণে মানুষ বিনোদন এবং সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবেও বেছে নিয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তিমাধ্যমগুলোকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা, অনেক দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ পাওয়ার কারণে মোবাইল বা ল্যাপটপে গেম খেলে, বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান দেখে কাটাচ্ছে তাদের সময়।
এছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের ই-কমার্সের ব্যবহারও বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। টেলিমেডিসিন সেবা, ডিজিটাল বিপণন সেবা, ডেলিভারি সুবিধা, যোগাযোগ প্ল্যাটফরম হিসেবেও ডিজিটাল প্রযুক্তি মাধ্যমগুলো দারুণভাবে ব্যবহূত হচ্ছে করোনা মহামারির এই সময়ে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সতর্কবার্তা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় একমাত্র ডিজিটাল প্রযুক্তিমাধ্যমগুলো ব্যবহারের মাধ্যমেই। বর্তমানে কেনাকাটা করতে আর যেতে হচ্ছে না ঘরের বাইরে। ঘরে বসেই কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য কেনা ও হোম ডেলিভারির সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। জামা-কাপড়, রান্না করা খাদ্যসামগ্রীও এর বাইরে নয়। যে কেউ চাইলেই প্রয়োজনীয় সব জিনিস মুহূর্তেই পৌঁছে যাবে তার ঠিকানায়।
যা করোনা সংকটকালেও আশার বাণী ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরের একটি নমুনা হিসেবে কাজ করছে ডিজিটাল প্রযুক্তিমাধ্যমের এই বিশাল অংশগ্রহণ। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে উল্লেখিত সেবাগুলো বহু আগে থেকে চালু হলেও, বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে তা ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হতো না এত দিন। পরিস্থিতির চাপে পড়ে এখন বাংলাদেশও বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করে নিচ্ছে এই মাধ্যমগুলোকে। যা মানুষের সময় এবং পরিশ্রম বাঁচিয়ে দিচ্ছে বহুগুণ এবং উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
এর পরও থেকে যাচ্ছে কিছু কিন্তু! ডিজিটাল প্রযুক্তিমাধ্যমগুলোতে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ যে শুধু সুবিধা দিচ্ছে তা কিন্তু নয়। এত বিশাল পরিমাণে অংশগ্রহণের ফলে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন ডিজিটাল প্রযুক্তিমাধ্যমগুলোতে। অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে না গ্রাহকের কাছে। তাছাড়া শিশুরা এখন অবাধে পড়ার ছলে মোবাইল ব্যবহার করতে পারছে সারাক্ষণ। ইন্টারনেটের উন্মুক্ত দুনিয়ার কোনো কিছুই হাতের নাগালের বাইরে নয়, তাই এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। দিতে হবে বিশেষ সতর্কতা। এছাড়া, অধিক সময় মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখ ও মাথায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়গুলোতে লক্ষ্য রাখতে হবে পরিবার ও সমাজের। তবেই আমরা পাব নিরাপদ ডিজিটাল প্রযুক্তিমাধ্যম।
n লেখক :শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
