ইন্টারনেটে দেওয়া তথ্যের সত্যতা

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২০, ২১:৪২

যে কোনো ধরনের তথ্য, সংবাদ ও ছবিসহ দৈনন্দিন জীবনে যা কিছু জানার প্রয়োজন হয়, সেজন্য সবার আগে আমরা আমাদের স্মার্টফোনটি হাতে নেই। উদ্দেশ্য ইন্টারনেটে সার্চ করা। নিজ চোখে দেখা অপেক্ষা ইন্টারনেটে দেখতে আমরা অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। বিশ্বাসযোগ্যতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে ইন্টারনেটে দেওয়া তথ্যগুলো। বাস্তব হলেও সত্যি, এ তথ্যগুলো মানুষই ইন্টারনেটে দিচ্ছে, আবার অন্য মানুষ তা ব্যবহার করছে। একই প্রশ্নের উত্তর সার্চ করলে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। একই ছবি এডিট করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়। বহু বছর আগের কোনো ছবি ডাউনলোড করে সাম্প্রতিক ঘটনা বলে চালিয়ে দিলেও তা অবিশ্বাস করার সুযোগ নেই। ফলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে খুব সহজেই। বর্তমান শিক্ষাক্ষেত্রও অনেকটা ইন্টারনেটনির্ভর। বই ঘাঁটাঘাঁটি করে তথ্য বের করা অপেক্ষা এক টোকাতে ইন্টারনেট থেকেই বের করে ফেলা যায় তথ্য। ফলে ছাত্র-শিক্ষক, গবেষক, প্রাবন্ধিক থেকে শুরু করে সব শ্রেণি ও বয়সের মানুষ এখন ইন্টারনেটনির্ভর। সত্য-মিথ্যা যাচাই করার কোনো সুযোগও থাকে না। ফলে অসতর্কভাবে দেওয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে ইন্টারনেটের বিশাল দুনিয়ায়। আর আমরাও বঞ্চিত হই সঠিক তথ্য আহরণ থেকে। সময় চলে যাবে, কিন্তু তথ্য থেকে যাবে। ফলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তথ্যের বিকৃতি কতটা ভয়াবহ হবে তা ভাবার বিষয়। একবিংশ শতাব্দীতে পদার্পণ করেও প্রযুক্তিগত এ ত্রুটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কিভাবে এর সমাধান করা যায় তা নিয়ে এখনই মাথা না খাটালে অচিরেই তা তথ্য-বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

শাহরিয়ার এম সোহান

শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ,

কুমিল্ল­া বিশ্ববিদ্যালয়