বরিশাল কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ডে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হানিফ খলিফা নামে এক আসামি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি কারা কর্তৃপক্ষের। গত শুক্রবার রাত পৌনে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, হানিফ খলিফা নিজের প্রতিবন্ধী কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণের মামলায় গত ১ অক্টোবর থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি হিসেবে ছিলেন। গত ৯ নভেম্বর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। এ কারণে কারাগারে তাকে দ্বিতীয় দফায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। হানিফ নগরীর কাশীপুর চৌহুতপুর এলাকার অস্থায়ী বাসিন্দা। তিনি জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার মধুকাঠী এলাকার আলী মো. খলিফার ছেলে।
ঐ কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. ইব্রাহীম জানান, রাত পৌনে তিনটার দিকে হানিফ টয়লেটে যায়। দীর্ঘ সময়েও বের না হওয়ায় অন্যদের সন্দেহ হয়। দায়িত্বরতরা টয়লেটে প্রবেশ করে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ডেপুটি জেলার। এদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কারাগারের প্রধান রক্ষী আনছার আলী মণ্ডল ও রক্ষী মো. কাওছারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারাগারের সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিজ কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নগরীর বিমানবন্দর থানায় হানিফের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী শিমুল বেগম। গত ১ অক্টোবর স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়।
