ঝিনাইদহে অনুমোদনহীন প্রাইভেট হাসপাতাল!

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩৫

মানা হচ্ছে না সরকারের নিয়মনীতি

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে অনুমোদনহীন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকের ছড়াছড়ি। এগুলো সরকারের নিয়মনীতি মানছে না। চলছে চিকিত্সার নামে অপচিকিত্সা। উদ্দেশ্য, রোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলার ছয় উপজেলায় ৮১টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ৯৯টি ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক রয়েছে। সরকারের নিয়ম আছে ১০ বেডের প্রাইভেট হাসপাতালে সর্বক্ষণ ডিউটির জন্য তিন ডাক্তার, ছয় জন ডিপ্লোমা পাশ নার্স, তিন জন ঝাড়ুদার ও তিন জন আয়া থাকতে হবে। অভিযোগ, হাতেগোনা দুই-একটি বাদে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে স্থায়ী ডাক্তার থাকে না। যদিও লাইসেন্স নেওয়ার সময় কাগজেকলমে ডাক্তার দেখিয়ে থাকে মালিকরা। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা অনকলে রোগী দেখেন।  তবে অফিস চলাকালে প্রাইভেট প্রাকটিস করতে পারবে না বলে সরকারি নির্দেশ আছে। আবার রোগী ধরার জন্য ডাক্তারদের নামের পাশে নানা ডিগ্রি জুড়ে প্রচার করা হয়ে থাকে। যেমন—পিজিটি বা বিসিএস (স্বাস্থ্য)। অনেকে এফসিপিএস পাশ না করে ২য় বা ৩য় পার্ট পাশ লিখে থাকেন। অধিকাংশ প্রাইভেট হাসপাতালে ডিপ্লোমা পাশ নার্স নেই। মেয়েদের অ্যাপ্রোন পরিয়ে নার্স বলে চালানো হয়।

প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ডাক্তারদের জন্য পৃথক রুম থাকতে হবে। থাকতে হবে সুসজ্জিত ওটি এবং সার্জিক্যাল অস্ত্রপাতি স্ট্রেলাইজেশন রুম। ওয়াশ রুমও থাকতে হবে। অনেক হাসপাতালে এসবের বালাই নেই। হাসপাতাল থাকবে পরিষ্কার পরিছন্ন। অধিকাংশ হাসপাতালে এসব শর্ত মানা হয় না। অভিযোগ তদারকের অভাবে প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকেরা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। মেডিক্যাল বর্জ্য ফেলার নিজস্ব জায়গা নেই। বেশির ভাগই নদীতে বা খালের পানিতে বর্জ্য ফেলে। এতে পরিবেশ দূষিত হয়। বেশির ভাগ প্রাইভেট হাসপাতাল আবাসিক ভবনে গড়ে উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর আয়ের প্রধান উত্স প্রসূতিদের সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো।  হাসপাতালে প্রসূতি নিয়ে গেলে বলা হয় গর্ভের পানি শুকিয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি সিজার করতে হবে। যদিও স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে সিজারের পরিবর্তে নরমাল ডেলিভারি করতে বলা হচ্ছে।

 ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকে একজন ডিপ্লোমা পাশ ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান থাকতে হবে। অভিযোগ, অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকে ডিপ্লোমা পাশ টেকনিশিয়ান নেই। অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে টেস্ট করানো হয়। আর তাদের রিপোর্টে রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মনীতি ভঙ্গকারী প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এরপর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর নড়েচড়ে বসেছে। সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেছেন। হরিণাকুণ্ডুতে তিনটি ও মহেশপুরে ১২টি হাসপাতালে অনিয়ম দেখতে পান। এগুলো বন্ধ করা হবে বলে তিনি জানান। ইতিমধ্যে ঝিনাইদহ সদরে তিনটি এবং হরিণাকুন্ডুতে একটি প্রাইভেট হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুরে রাবেয়া প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে অপচিকিত্সায় এক প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ করে তার স্বজনরা। ঐ হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর ফলে মানহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিক অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর জন্য ক্লিনিক মালিক দায়ী নয়। তিনি অভিযোগ করেন, এজন্য অজ্ঞানকারী ডাক্তার বা সার্জন দায়ী।