তর্ক-বিতর্কে জয়ীদের গল্প

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:৪১

  তোফায়েল পাঠান শান্ত

 

বুদ্ধিভিত্তিক চর্চার ক্ষেত্রে একটি কার্যকরী ও মনোরম পন্থা হচ্ছে বিতর্ক। ‘যুক্তির সমরে মুক্তির মিছিল’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা লগ্ন থেকে সহশিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করা ‘জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি’ (জেএনইউডিএস)-এর ১৫তম আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২০’ করোনার মধ্যেই ভিন্ন আঙ্গিকে অনলাইন প্লাটফরমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব সময় পরমতকে সম্মান করা, গণতন্ত্রকে প্রাধান্য দেওয়া এবং নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে নিজের চিন্তা চেতনার জগেক বিকশিত করতে এই সংগঠন সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়াও  বিতর্ক পুরোটাই যুক্তির খেলা, এর মাধ্যমে প্রত্যকেই সময়-জ্ঞান এবং প্রথিত ভাষা চর্চার মাধ্যমে নিজের জ্ঞানে প্রসার ঘটানোর এক দারুণ সুযোগ পেয়ে থাকে।

(জেএনইউডিএস)-এর এবারের বিতর্ক প্রতিযোগিতাটির শুরু থেকেই প্রতিটি দলের মধ্যে তুমুল হাড্ডাহাড্ডি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হয়েছে। বহুল প্রতিক্ষিত গ্র্যান্ড ফাইনালে ‘ভারতীয় উপমহাদেশে বর্তমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বীজ বপন করেছিল দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ বিভাগ’ এমন বিষয়ে ইসলামিক স্টাডিজ সরকারি দল ও লোক প্রশাসন বিভাগ বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। দুটি দলই অত্যন্ত প্রাণবন্ত যুক্তি পালটা যুক্তি উপস্থাপন করে গেলেও বিচারকদের রায়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি হাসেন ইসলামিক স্টাডিজ (সরকারি দল)। এই দলের ফাইনালে দলনেতা হিসেবে ছিলেন মুনিয়া আক্তার যুথী। দলের বাকি দুই জন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা হলেন মুসাররাত তাসমিয়া রহীম ও মো. সোহেল রানা।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এক জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য কতটা তাত্পর্যপূর্ণ হতে পারে তা বুঝাতে তার্কিক মুসাররাত তাসমিয়া রহীম বলেন, ‘প্রিভিলেজ মানুষ হওয়ার প্রথম শর্ত তাকে যৌক্তিক হওয়া বা মুক্তবুদ্ধির চর্চায় পারদর্শী হওয়া এবং দ্বিতীয়ত তাকে হতে হবে সাম্প্রতিক তথ্যবহুল, দায়িত্ব কর্তব্য ও অধিকার সচেতন মানুষ। এই সবটাই আমরা পেতে পারি বিতর্ক থেকে। অন্তরে অন্যরকম একটি আত্মবিশ্বাস কাজ করে। মনে হয়, আমরাই পারি বিশ্বটাকে বদলে দিতে।’

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জার্নিটা কেমন ছিল? এমন প্রশ্নে মুনিয়া আক্তার যুথী বলেন, ‘যুক্তির খেলায় একেক দলকে হারানোটাও প্রায় দুঃসাধ্য ব্যাপার। তবুও দিন শেষের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নিজের বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি ফাইনালের মঞ্চে এবং আল্লাহর রহমতে ISDC-২-এর মাধ্যমে আনতে পেরেছি চ্যাম্পিয়নের ট্রফি।