ওয়ানডেতে ব্যবধান নেহায়তে কম নয়। কিন্তু টেস্ট র্যাংকিংয়ে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশের পরই জিম্বাবুয়ের অবস্থান। তারপরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জিম্বাবুয়েকে এখন আর বাংলাদেশের প্রবল প্রতিপক্ষ ধরা হয় না। সব ফরম্যাটেই জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তাই টাইগারদের জয়টা সবার কাছে প্রত্যাশিত। ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ তে অনায়াস জয় এসেছিল। সবাইকে পিলে চমকে দিয়ে সিলেটে প্রথম টেস্টে সফরকারীদের কাছে ১৫১ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।
মিরপুর টেস্টে বিপুল বিক্রমে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। গতকাল ম্যাচের পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় সেশনে জিম্বাবুয়ে ২১৮ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। তাতেই সমতা (১-১) দিয়ে টেস্ট সিরিজ শেষ করল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।
ব্যাটিংয়ে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরি, মুমিনুল-মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি, মিঠুনের হাফ সেঞ্চুরি জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল। বোলিংয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে নিশ্চিত হয় মান বাঁচানো জয়।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করার মাঝে স্বস্তি, আনন্দ কোনোটাই অনুভব করছেন না অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। জয়ের কিছুর আনন্দ অবশ্য আছেই। গতকাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়ক বলেছেন, ‘যদি আপনি ম্যাচ জয় করেন তাহলে অবশ্যই আপনার আনন্দ লাগা উচিত। ম্যাচ জিতলে অতটুকু অধিকার থাকে আনন্দ প্রকাশ করার।’
তবে খারাপ খেলে ম্যাচ হারলে সবচেয়ে বেশি কষ্টটা পান ক্রিকেটাররাই। এবং সেই কষ্টে তাদের অশ্রু ঝরার দৃশ্যও কেউ দেখে না। মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আমরা যখন খারাপ খেলি, ড্রেসিংরুমে মনটা আমাদেরই বেশি খারাপ হয়। আমাদের চোখের পানিটা কেউ দেখে না। আমরা এটা কাউকে বলিও না।’
এমন জয়ে স্বস্তি নাকি আনন্দ বেশি জানতে চাইলে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘এখানে তুলনা করার কোনো ইস্যু নেই, স্বস্তিও না, আনন্দও না।’
প্রথম টেস্টে হারের পর হতাশ হয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেছিলেন, এভাবে টেস্ট খেলার কোনো মানে হয় না। গতকাল বলেন, মিরপুর টেস্টের মতো খেলতে পারলে ঠিকই আছে সব। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা প্রথম টেস্টের মতো খেলি, তাহলে অবশ্যই মানে হয় না। আবার যদি আপনি এই টেস্টের কথা চিন্তা করেন, যদি আমরা এমন মানসিকতা দেখাতে পারি এবং কাজে কর্মে সেটা দেখাতে পারি, তাহলে অবশ্যই মানে হয়।’
মিরপুরে জিততে মরিয়া ছিল বাংলাদেশ দল। মাঠে নিজেদের পারফরম্যান্সেও সেটা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা ছিল বাংলাদেশের। মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘প্রথম টেস্ট শেষে একটা কথা বলেছিলাম, আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে সবাই বেশ মানসিকভাবে দৃঢ় ছিলাম, প্রথম টেস্ট হারের পর আমরা খুব কষ্ট পেয়েছিলাম, আমরা চেয়েছিলাম তার বহিঃপ্রকাশ মাঠে দেখাতে। আমার মনে হয় আমরা কিছুটা হলেও করতে পেরেছি।’
প্রত্যাশিত জয়ে সব বিভাগে শৃঙ্খলিত পারফরম্যান্সের কৃতিত্বই দেখছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘সবাই চাচ্ছিল জিম্বাবুয়ের সাথে বাংলাদেশ জিতুক। আমার মনে হয় জিম্বাবুয়েকেও কৃতিত্ব দিতে হবে, ওরা ভাল ক্রিকেট খেলেছে। ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগে ভাল করেছে। প্রথম টেস্টে কিছু শৃঙ্খলার অভাব ছিল, যা টেস্ট ক্রিকেটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ওই জিনিসটা আমরা করতে পারি নি, যা এই টেস্টে করতে পেরেছি।’
ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ শেষ চার টেস্টে বড় রান করতে পারেননি। মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৩৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১০১ রান করেছেন। আট বছর পর টেস্ট সেঞ্চুরি করে ছন্দে ফেরায় স্বস্তিতে এই ব্যাটসম্যান।
কয়েকদিন পরই শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হোম সিরিজ। সেখানেও মুশফিক, মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহদের ব্যাটে রানের ছন্দ দেখতে চাইবে বাংলাদেশ।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ১৬০ ওভারে ৫২২/৭ ডিক্লেয়ার
জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস : ১০৫.৩ ওভারে ৩০৪/১০
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ৫৪ ওভারে ২২৪/৬ ডিক্লেয়ার
জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
মাসাকাদজা ক মোমিনুল ব মিরাজ ২৫ ৬৮ ১ ০
চারি এলবিডব্লু ব তাইজুল ৪৩ ৪২ ৩ ১
টেইলর অপরাজিত ১০৬ ১৬৭ ১০ ০
উইলিয়মস বোল্ড ব মুস্তাফিজুর ১৩ ৩৩ ১ ০
সিকান্দার ক এন্ড ব তাইজুল ১২ ৩৩ ১ ০
মুর ক ইমরুল ব মিরাজ ১৩ ৭৯ ১ ০
চাকাবভা রান আউট ২ ৮ ০ ০
তিরিপানো ক লিটন ব মিরাজ ০ ৯ ০ ০
মাভুতা ক তাইজুল ব মিরাজ ০ ১১ ০ ০
জার্ভিস ক খালেদ ব মিরাজ ১ ৯ ০ ০
চাতারা (আহত অনুপস্থিত)
অতিরিক্ত (বা-১, লে বা-৩, ও-৫) ৯
মোট (৮৩.১ ওভার) ২২৪/১০
বাংলাদেশ বোলিং :
মুস্তাফিজুর : ১০-২-১৯-১, তাইজুল : ৩৭-৫-৯৩-২, খালেদ : ১২-৪-৪৫-০ (ও-১), মিরাজ : ১৮.১-৫-৩৮-৫, আরিফুল : ৩-১-৭-০, মাহমুদুল্লাহ : ১-০-১-০, মুমিনুল : ২-০-১৭-০।
ফল : বাংলাদেশ ২১৮ রানে জয়ী।
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ।
ম্যাচ সেরা : মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ)।
সিরিজ সেরা : তাইজুল ইসলাম (বাংলাদেশ)।
