দেশের পুরাতন বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যশোর বিমানবন্দর। কিন্তু আজও এই গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত বাস্তবমুখী কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি মাঝেমধ্যেই সামনে চলে আসে।
গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গিয়েছিলেন যশোরে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের প্রতিনিধিও। কিন্তু বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মীর বহর টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে বাধে গন্ডগোল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভেতরে প্রবেশে বাধা দিতে গেলে প্রথমে পরস্পরের সঙ্গে বচসা, ধস্তাধস্তি শেষ পর্যন্ত লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সিভিল অ্যাভিয়েশনের সদস্যরাও লাঞ্ছিত হন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে যশোর পুলিশ সুপার মো. আশরাফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, মন্ত্রীর সামনেই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের অভিভাবকদের জানানো হয়েছে। এরপর যদি এমন ঘটনা ঘটে তখন পুলিশ আইনি অ্যাকশনে যাবে।
জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে জানান, পুলিশ সুপার বিষয়টি অবহিত করেছেন। বস্তুত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি মাথায় রেখে পুরো ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে হবে। এ জন্য শিগিগর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আন্তঃসভা করা হবে। মন্ত্রী-এমপি বা ভিআইপিদের যাতায়াতের সময় কতজন বা কী ধরনের ব্যক্তিকে বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে, তারা কতদূর যেতে পারবেন সেসব নির্ধারণ করতে হবে। আর শুধু তা করলেই হবে এটা সবাইকে জানানোর ব্যবস্থাও করা হবে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে এই বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হয়েছে। কিন্তু আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার দিকটি উপেক্ষিত রয়েছে। যদিও নিরাপত্তা সুরক্ষা সম্পর্কিত একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা বিদ্যমান রয়েছে কিন্তু বাস্তবায়নে যশোর সিভিল অ্যাভিয়েশন, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের তেমন তত্পরতা নেই।
নাম প্রকাশ না করে বিমানবন্দরের এক জন কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা পুরোপুরি অনুসরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মহলের সহযোগিতা দরকার। এমন সব ব্যক্তি আছেন যারা যাতায়াতের সময় অসংখ্য সমর্থক-নেতাকর্মী প্রবেশ করেন। বাধা দিতে গেলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
