সিলেট বিভাগে অবৈধভাবে বালি-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোন ভাবেই যাতে অবৈধভাবে বালি-পাথর উত্তোলন করা না হয় এ জন্য কঠোর নজরদারী চলছে। একই সঙ্গে টাস্ক ফোর্সও মাঠে কাজ করছে।
কর্মকর্তারা জানান, অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে সিলেটের নদী সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বালি-পাথর তুলায় প্রকৃতির উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগের যেকোন সময় থেকে এবার এই বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার বালি-পাথর ও নৌকা শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন। তারা বলছেন, ‘আমরা বৈধ পন্থায় কাজ করে খেতে চাই। সনাতন পদ্ধতিতে অর্থাৎ কোদাল, বেলচা, টুকরির সাহায্যে হাত দিয়ে বালি পাথর আহরণ ও বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করতে চাই।’
এদিকে সোমবার জেলার সদর উপজেলার চেঙ্গেরখাল নদীর বড়খাল নামক স্থান থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৮ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের এ শাস্তি প্রদান করা হয়।
সূত্র মতে চেঙ্গেরখাল নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন খবর পেয়ে সোমবার সকালে অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শবনম ফারিহার নেতৃত্বে। তাকে সহায়তা করেন জালালাবাদ থানার পুলিশের একটি দল।
এ সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত কয়েকটি বাল্কহেড ড্রেজারসহ বালু বহনকারী দুইটি কার্গো ট্রলার অপসারণ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি-বালি উত্তোলন করে আসছে মৌগলগাঁও গ্রামের মৃত বশির আলীর দুই ছেলে শামসুল ও লাল মিয়া। সোমবার শেষ রাতে মাটি উত্তোলন শুরু করে তারা। এসময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ বাল্কহেড ড্রেজারসহ বালি বহনকারী দুটি কার্গো ট্রলার জব্দ করে।
২১ টি শ্যালো মেশিন আগুন লাগিয়ে ধ্বংস :
অন্যদিকে গত রবিবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চারায় টাস্কফোর্স। উপজেলার ধলাই নদীর লীলাই বাজার, দয়ার বাজার ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১ টি শ্যালো মেশিন আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করে দেয়। দিন ব্যাপী চলা এ অভিযান নেতৃত্ব দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরশাদ মিয়া।
পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ এ অভিযানে ২১ টি শ্যালো মেশিন, ৩ হাজার ফুট পাইপ ও বালু-পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত মেশিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ হাতুড়ি দিয়ে ধ্বংস করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ধ্বংসকৃত মালামালের মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরশাদ মিয়া জানান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইত্তেফাক/এসআই
