ভেষজগুণসম্পন্ন লতাজাতীয় উদ্ভিদ। পাতা কিছুটা হূদপিণ্ডাকার ও পুরু, দেখতে অনেকটা গোলমরিচ বা পানপাতার মতো, ২ থেকে ৩ ইঞ্চি লম্বা। অন্য গাছের আশ্রয় নিয়ে চুইঝাল বেড়ে ওঠে। কাণ্ড থেকে আকর্ষি বেরোয়, কাণ্ডসহ সেই আকর্ষি থেকে গাছ হয় অথবা শিকড়সহ গিট বা পর্বমধ্য কেটে লাগালেও নতুন গাছের বৃদ্ধি ঘটে। পরিণত গাছে ফুল ও ফল হয়। পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা লতায় জন্মে। পরাগায়ন প্রাকৃতিকভাবেই সম্পন্ন হয়। ফুল লাল লম্বাটে—দূর থেকে অনেকটা মরিচের মতো দেখায়। ফলের ব্যাস এক ইঞ্চির মতো, সাধারণত লাল রঙের হয়। তবে পরিপক্ব হলে বাদামি বা কালো রং ধারণ করে। বর্ষায় ফুল আসে, শীতের শুরুতে ফল আসে। বীজ থেকে চারাও হয়।
বিশেষ করে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এবং নড়াইল এলাকায় এই চুইঝাল মসলা হিসেবে খুব জনপ্রিয়। কাণ্ড বা লতা কেটে ছোট ছোট টুকরো করে মাছ-মাংস ও অন্যান্য রান্নায় ব্যবহার করা হয়। রান্নায় এর ঝাল খাবারের স্বাদ বাড়ায়। গোলমরিচের মতো ঝাল স্বাদের হলেও এর একটা নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ আছে। চুইঝাল ব্যবহার করলে তরকারিতে মরিচ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।
চুইলতার শেকড়, কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফল সবই ভেষজগুণসম্পন্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ। রুচি বাড়াতে ও ক্ষুধামন্দা দূর করা ছাড়াও বাত-ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহ নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকর।
