আমাদের সমাজে মেয়ের বাপদের নাকি মাথা নিচু করে চলতে হয়! এখানে মেয়ের বাপ বলতে সাধারণত ছেলেসন্তান নেই এমন ব্যক্তিদেরই বোঝানো হয়ে থাকে। বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজে এর প্রভাব বেশি লক্ষ্যণীয়। যা কন্যাসন্তানদের প্রতি একধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ ও নেতিবাচক ধারণার উন্মেষ ঘটায়। অথচ এই কন্যাসন্তানেরাই আগামীর মমতাময়ী মা, ভবিষ্যতের প্রেরণাদানকারী অর্ধাঙ্গিনী। তবু অনেকক্ষেত্রে প্রথমে কিংবা একাধিক কন্যাসন্তান জন্মদানকারী দম্পতি এবং তাদের স্বজনদের ভারাক্রান্ত হতে দেখা যায়। অনেক সময় একটি পুত্রসন্তানের আশায় তারা উচ্চ জন্মহারের দিকে ধাবিত হয়। অর্থাত্ সবদিক থেকে কন্যাশিশুর জন্মকে কিছুটা অবহেলার চোখে দেখা হয়। যার ফলে মেয়েদের বিয়ে দিয়েই ঝামেলা শেষ—এই ধরনের মনোভাব আমাদের সমাজে এখনো বিদ্যমান। এতে করে ছেলেদেরকে উচ্চশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে যে আগ্রহ ও প্রচেষ্টা দেখা যায়, মেয়েদের বেলায় তার অনুপাত একেবারেই নগণ্য। অথচ আজকের উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে লক্ষ করলে দেখা যাবে, ছেলেদের মতো মেয়েরাও কোনো দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই। কন্যাসন্তানকেও ছেলেসন্তানের মতো গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ শিক্ষা ও উপযুক্ত পরিবেশে মানুষ করা গেলে ব্যক্তি যে আশা কিংবা স্বপ্ন নিয়ে ছেলেসন্তান কামনা করে, কন্যাসন্তানকে দিয়েও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা অসম্ভব কিছু নয়। তাই ছেলেসন্তান জন্ম না নিয়ে মেয়েসন্তান জন্ম নিলে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কেননা প্রতিটি সন্তানই মা-বাবার জন্য আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার। সুতরাং আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হোক সন্তানের ভিত্তিতে; ছেলে কিংবা মেয়ের ভিত্তিতে নয়।
মুহাম্মদ আবু হানিফ
চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম
