ধর্ষণ মামলায় মাদরাসা সুপারের যাবজ্জীবন 

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ২২:১৯

দ্রুত পুলিশি তদন্ত সম্পন্ন ও আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মাত্র তিন কার্য দিবসে ধর্ষণ মামলার রায়ে মাদরাসা সুপার আব্দুল কাদেরকে (৪২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাস কারাভোগের আদেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক।

মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মুন্সি মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। কুষ্টিয়ার আদালতে মাত্র তিন কার্য দিবসে নিষ্পন্ন ও রায় ঘোষিত এটিই প্রথম মামলা বলে পিপি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান। 

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার অন্তর্গত পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরুপদহ গ্রামস্থ সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেছা মহিলা মাদরাসার সুপার (শিক্ষক) আব্দুল কাদের (৪২) মাদরাসার ৪র্থ শ্রেণির আবাসিক ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা মাদরাসা ভাংচুর করে। পরে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিরপুর থানায় মামলা করেন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আতিকুল ইসলাম দ্রুততম সময়ে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা, ভিকটিম ও আসামির জবানবন্দি গ্রহণসহ যাবতীয় কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করেন। 

আরো পড়ুন: এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ১৪৬৩ শিক্ষক-কর্মচারী

এছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত কার্য দিবসের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। পাশাপাশি দ্রুত মামলাটি নিষ্পত্তি করতে জেলা পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় সকল সাক্ষীকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়। ফলে আদালতে মাত্র তিন কার্য দিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পন্ন ও সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার আব্দুল কাদের অপরাধী প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

মামলাটি সরকার পক্ষে পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম। 

ইত্তেফাক/এএএম