কমলগঞ্জের লাঘাটা নদীর বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনও থেমে নেই। বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আগামী বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে সৃষ্ট এই লাঘাটা নদী কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, আলীনগর, শমশেরনগর, পতনঊষার ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে গিয়ে মনু নদে পতিত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে লাঘাটা নদী দিয়ে পাহাড়ি ও উপজেলার বন্যার পানি নিষ্কাশিত হয়। তবে পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, যে কারণে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
কৃষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর অবশেষে গত বছর লাঘাটা নদীর নিম্নাঞ্চলে আংশিক খনন ও সংস্কার করা হয়। এতে কৃষকদের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হয়। কিন্তু শমশেরনগর থেকে লাঘাটার উত্পত্তিস্থল পর্যন্ত খনন ও সংস্কার না হওয়ায় নদী ভরাট ও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে নদীর স্থানে স্থানে অবৈধভাবে পলিবালু উত্তোলন করে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি আলীনগর ইউনিয়নের যোগীর বিল এলাকায় বাঁধ কেটে বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও বন্যার আশঙ্কা করছেন এলাকার মানুষ।
চা-শ্রমিক ও স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, লাঘাটা নদী থেকে প্রতি বছর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে থাকে। এতে নদীর বাঁধ ও গ্রামীণ রাস্তাঘাটের যথেষ্ট ক্ষতি হয়।
কমলগঞ্জের হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্যসচিব তোয়াবুর রহমান ও যুগ্ম-সচিব আনোয়ার খান বলেন, কৃষকদের দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে লাঘাটা নদীর নিম্নাঞ্চলে গত বছর খননকাজ হলেও তা পুরোপুরি শেষ হয়নি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, নদী ও ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে সব সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়। লাঘাটা নদীর বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
