তনু হত্যার তদন্তভার এবার পিবিআইতে

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ২২:২২

দেশব্যাপী বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের চার বছর আট মাস পূর্ণ হচ্ছে কাল (১৯ নভেম্বর)। দীর্ঘ এই সময়ে পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির পর এবার মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার ভূতপূর্ব তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার সাবেক বিশেষ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে চাঁদপুরে কর্মরত) জালাল উদ্দিন আহমেদ। পিবিআইয়ের টিম গত রবিবার কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার যে স্থান থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই স্থান পরিদর্শনসহ তনুর বাবার সঙ্গে কথা বলেছে। এদিকে এ হত্যার বিচার পাওয়া নিয়ে এতদিন হতাশা প্রকাশ করলেও এবার পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ায় ঘাতক শনাক্ত, গ্রেফতার ও বিচার পাওয়া নিয়ে আশার আলো দেখছেন বলে জানান তনুর বাবা-মা ও স্বজনেরা।

জানা যায়, তনু হত্যা মামলাটি থানার পুলিশ ও ডিবির পর ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিল সিআইডি কুমিল্লা। একই বছরের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। ফলে শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। চতুর্থ দফায় ঐ বছরের ২৪ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা বদল করে জালাল উদ্দিন আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামাকাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত আসামি শনাক্ত হয়নি। তবে সিআইডির একটি সূত্র জানায়, ‘যাদের ডিএনএ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর প্রোফাইল তৈরি করে ম্যাচিং করা হবে। এর জন্য বিদেশের দ্বারস্থও হতে হয়। দেশের বাইরে থেকে ফল পেতে সময় লাগে। তারপর আলামতের সঙ্গে মেলানো হবে। এখন পর্যন্ত ঐ প্রতিবেদন আসেনি।’ ফলে ডিএনএ ম্যাচিংয়েই আটকে থাকে তদন্ত। এরই মধ্যে গত সোমবার রাতে তনুর ছোট ভাই রুবেল তার ফেসবুকে মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তরের বিষয়টি জানান দিয়ে স্ট্যাটাস দেন এবং তার বোনের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। পুলিশ কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ‘গত ২২ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে গত ২১ অক্টোবর সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআই-ঢাকা কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাই এ মামলার বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’ পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিআইডি থেকে মামলার নথি ঢাকা পিবিআই কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জেনেছি। এ মামলা ঢাকা অফিসই তদন্ত করছে। এর বেশি কিছু জানি না।’

গতকাল বিকালে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘মামলাটি কবে, কখন সিআইডি থেকে পিবিআইয়ে গেছে তা জানি না। গত রবিবার ঢাকা থেকে কয়েক জন পিবিআই সদস্য সেনানিবাসের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। তখন আমরা জানতে পেরেছি, মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ, ডিবি, র্যাব, সিআইডিসহ বিভিন্ন তদন্তকারী ও গোয়েন্দা সংস্থা গত চার বছর আট মাস ধরে তদন্ত ও অনুসন্ধান চালালেও এক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি দেখি নাই। তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে শনাক্ত, গ্রেফতার কিংবা ডিএনএ ম্যাচিং পর্যন্ত করতে পারেনি। এবার পিবিআই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ায় মেয়ে হত্যার বিচার পাওয়া নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখছি। জানি না বিচার পাব কি না।’ তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘দুইবার তনুর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে, কিন্তু ডাক্তাররা তনুর মৃত্যুর কোনো কারণই নাকি পায়নি। দীর্ঘ এই তদন্তকালে কতবার কত জায়গায় গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছি, কিন্তু মামলার কোনো অগ্রগতি দেখিনি। এবার পিবিআইয়ের তদন্তে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে এবং ঘাতকেরা গ্রেফতার হবে বলে আশা করছি।’