দ্রুত পুলিশি তদন্ত সম্পন্ন এবং আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে কুষ্টিয়ায় মাত্র তিন কার্যদিবসে ধর্ষণ মামলার রায়ে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল কাদেরকে (৪২) যাবজ্জীবন করাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাস কারাভোগের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মুন্সি মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। কুষ্টিয়ার আদালতে মাত্র তিন কার্যদিবসে নিষ্পন্ন ও ঘোষিত রায় এটিই প্রথম বলে পিপি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান।
জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর জেলার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরূপদহ গ্রামের সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেছা মহিলা মাদ্রাসার সুপার (শিক্ষক) আব্দুল কাদের মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির এক আবাসিক ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসা ভাঙচুর করে। পরে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিরপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আতিকুল ইসলাম দ্রুততম সময়ে ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা, জবানবন্দি গ্রহণসহ যাবতীয় কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করেন। এছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পাশাপাশি মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে জেলা পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় সব সাক্ষীকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়। ফলে আদালতে মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পন্ন ও সাক্ষ্য-প্রমাণে আব্দুল কাদের অপরাধী প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
