একই কর্মকর্তা কর্তৃক দুদকের মামলার অনুসন্ধান ও তদন্তের এখক্তিয়ারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি হাইকোর্টে শেষ হয়েছে। আগামী ৮ ডিসেম্বর এই বিষয়ে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছে আদালত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার শুনানি শেষে রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করে দেন।
বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে রমনা থানায় অবৈধ সম্পদের মামলা করে দুদক। মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এ পর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর বিধি ২৪ (১) বিধি চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। সংশ্লিষ্ট বিধিতে বলা হয়েছে, আইনের তপশিলভুক্ত কোনো অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান এবং তদন্ত একই কর্মকর্তা দ্বারা সম্পন্ন করা যাবে। রিটে বলা হয়, একই কর্মকর্তা কর্তৃক দুদকের মামলার অনুসন্ধান ও তদন্ত সংবিধানের ২৯ ও ৩০ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। এই রিটের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে। ঐ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নেয় আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান, রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ, এসএম শাহজাহান ও শাহদীন মালিক শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ের জন্য ৮ নভেম্বর দিন ধার্য করে দেয়।
পরে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, মামলার বিচার শুরু হওয়ার পর্যায়ে দুদক বিধিমালা চ্যালেঞ্জ করে যে রিট করা হয়েছে তা বিচারকে নস্যাত্ করার একটা চেষ্টা। কারণ অনুসন্ধান কর্মকর্তা অভিযোগের অনুসন্ধান করে মেমো অব এভিডেন্স জমা দেন। এরপর তা কমিশনের লিগ্যাল উইংয়ে যায়। এরপর কমিশন অনুমোদন করলে এজাহার দাখিল করা হয়। নিয়োগ হয় তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কর্মকর্তা মামলার অভিযোগ তদন্ত করে মেমো অব এভিডেন্স জমা দেন। এটাও কমিশনের অনুমোদন লাগে। কমিশন সন্তুষ্ট হলে তখন অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তাই একই ব্যক্তি অনুসন্ধান ও তদন্ত কর্মকর্তা হলেও যা ইচ্ছা তা করার সুযোগ নাই বলে জানান খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, দুদকের মামলাগুলো হয় বেজড অন ডকুমেন্টের ওপর। এসব দালিলিক তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে মামলাটি আদালতে প্রমাণ করতে হয়।
