বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা সিলেটের জনজীবন। স্থবির হয়ে আছে ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক-বীমা, অফিস আদালত। বিশেষ করে নগরীর ২৭ ওয়ার্ডে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চলছে মঙ্গলবার থেকে।
বর্তমান যুগের অন্যতম অনুষঙ্গ মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট বিদ্যুতের অভাবে অনেক স্থানেই অচল হয়ে পড়েছে। বহুতল বাসাবাড়ি ও অফিস আদালতের লিফট বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বয়স্ক ও শিশুরা।
বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রিড লাইন সিলেট কুমারগাও ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায়। এতে সিলেট জুড়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বহু চেষ্টার পর সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ জেলাসহ কিছু কিছু এলাকায় বিকল্প পন্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপিত করা গেলেও বিভাগীয় নগরীসহ সিলেট জেলার ৮ লাখ গ্রাহক ঘটনার পর থেকে এই রিপোর্ট লেখা (বিকাল সাড়ে ৪টা) পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পনঃস্থাপিত করা যায়নি। তবে অবস্থার উন্নয়নে মঙ্গলবার রাত থেকে ২শ’ লোক সেখানে কাজ করছে বলে জানান প্রকৌশলীরা।
এদিকে নগরীর ৮ লাখ লোক পড়েছেন মহা বিপাকে। ২৭টি ওয়ার্ডে চলছে পানির জন্য হাহাকার। কলসি, বালতি নিয়ে এদিক ওদিক পানির জন্য ছুটছেন।
নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ ভ্যানগাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করছেন। পুকুরের এই নগরীর অধিকাংশই এখন ভরাট। নগরীতে পর্যাপ্ত টিউবওয়েলও নেই। বৈদ্যুতিক পাম্প না চলায় বাড়িঘরে দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট। বাজারের বোতলজাত পানিও ফুঁড়িয়ে গেছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পানি সরবরাহ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, নগরে প্রায় ৮ লাখ বাসিন্দার দৈনিক পানির চাহিদা রয়েছে ৮ কোটি লিটার। এর মধ্যে ৪-৫ কোটি লিটার সিটি কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করতে পারে। ৫৪ হাজার হোল্ডিংয়ের মধ্যে পানির গ্রাহক রয়েছেন সাড়ে ১৬ হাজার।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগার আগে প্রায় ১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সঠিকভাবে পানি সরবরাহ সম্ভব নয় বলে সিটি কর্পোরেশন নগরে মাইকিং করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই বাসা-বাড়ি, মসজিদসহ নানা স্থানে পানির সংকট সৃষ্টি হয়। গৃহস্থালির কাজও ব্যাহত হয়।
নগরীর অনেক গৃহহীনই জানান, বাথরুমে পানি নেই। এমনকি খাওয়ার প্লেটও তারা ধুতে পারছেন না। অনেক স্থানে ভ্রাম্যমাণ জেনারেটর লাগিয়ে পানির ব্যবসা শুরু হয়েছে। এক হাজার লিটার পানির ট্যাংকি ভরে দেওয়ার বিনিময়ে ১ হাজার থেকে দেড়হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। নগরীর অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ। যানবাহনে জ্বালানি সমস্যা দেখা দিয়েছে। ৫ টাকার মোমবাতি ১২ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শহরে মানুষ কমে যায়। অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নগরে পানি সরবরাহ করতে পারছে না। বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে চরম দুরবস্থা চলছে। অনেক স্থানে জেনারেটরও। কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত।
পিডিবির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বুধবার বিকালের দিকে ডিভিশন ১ ও ২-এর আওতাধীন নগরীর এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। ডিভিশন ১ ও ২-এর আওতাধীন নগরীর এলাকাগুলো হচ্ছে, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, আলিয়া মাদরাসা, স্টেডিয়াম, আম্বরখনা, ওসমানী মেডিকেল, তালতলা, বন্দবাজার একাংশ, শাহজালাল উপশহর, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, রায়নগর, এসমসি কলেজ এলাকা, মির্জাজাঙ্গাল, লামাবাজার, শাহী ঈদগাহ, হাউজিং এস্টেট, মহাজনপিট্ট, মুরাদপুর, আখালিয়া, মদিনা মার্কেট, বাগবাড়ি ইত্যাদি। এই মুহূর্তে সিলেট মহানগরীর আড়াই লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন পিডিবির প্রকৌশলী ফজলুল করিম।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
