জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গৃহবধূ মনোয়ারা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন স্বামী ছিদ্দিক আলী। মঙ্গলবার বিকেলে ছিদ্দিক আলী হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মীরনগর গ্রামের গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, প্রতিবেশী মিষ্টার মিয়া, সালাম মিয়া গংদের সঙ্গে জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ চলছিল ছিদ্দিক আলীর। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে স্ত্রী মনোয়ারাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, গত শনিবার (১৪ নভেম্বর) রাত ১২টার দিকে কৌশলে জনৈক আবু লালের ধানের জমিতে নিয়ে যান। সেখানে ঘাতক স্বামী
দা দিয়ে স্ত্রীর গলায় আঘাত করলে মনোয়ারা বেগম ড্রেনে পড়ে যান। পরে গলায় দা চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে স্বামী বাড়ি চলে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ রবিবার (১৫ নভেম্বর) ধানী জমির ড্রেন থেকে মনোয়ারা বেগমের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলা, আওয়ামী লীগের ১২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
এরপর পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নামে। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় নিহতের স্বামী ছিদ্দিক
আলীকে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন স্বামী। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহার করা দা উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার (১৬ নভেম্বর) উক্ত ঘটনায় নিহত মনোয়ারা বেগমের ভাই মো. খালেক মিয়া বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ইত্তেফাক/আরআই
