ড. ইশরাফিল শাহিন। নাট্যব্যক্তিত্ব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্ম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক ও পরিচালক। দেশের ৬৮টি কারাগারে কারাবন্দিদের জন্য নাট্যচর্চা ও সংস্কৃতি চর্চা শুরু হতে যাচ্ছে তার উদ্যোগে। এ প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
সম্প্রতি আপনি কারাবন্দিদের জন্য নাট্যচর্চা ও সংস্কৃতি চর্চার একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ দিয়ে সাক্ষাত্কার শুরু করতে চাই—
আমি সবসময় মঞ্চকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছি। মঞ্চনাটককে জনমুখী করার চেষ্টা আমার সবসময়ের। সেই জায়গা থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্ম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ৩ জন শিক্ষার্থী আমার সরাসরি তত্ত্বাবধানে কারাবন্দিদের মনস্তত্বে ইতিবাচক উন্নয়ন এবং আত্মসংশোধন প্রণালী রূপে কারানাট্য এবং কারাগারে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সারাদেশে ৬৮টি কারাগার রয়েছে। প্রতিটি কারাগারে এই কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলুন—
মঞ্চনাটক নিয়ে আমি নতুন কিছু বরাবর করতে চেয়েছি। সেই থেকে এই পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা। বিগত তিন দশক ধরে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কারানাট্য জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বে কারাবন্দিদের মনস্তত্বে ইতিবাচক উন্নয়ন এবং আত্মসংশোধন প্রণালী রূপে কারানাট্য সংশোধনী উদ্যোগের একটি সমার্থক হয়ে উঠছে। কারাগারের বদ্ধ পরিবেশে দলগতভাবে নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একজন অপরাধীর মানবিক গুণাবলীসমূহ বিকশিত হবে এবং আত্ম-প্রতিফলন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে কারাবন্দি ব্যক্তি অনুধাবন করতে পারবে যে, সে কী ভুল করেছে এবং কীভাবে নিজেকে শোধরাতে হবে। আমরা কেরানিগঞ্জ কারাগার থেকে এই উদ্যোগ শুরু করতে চাই। প্রথমদিনে আমাদের সঙ্গে থাকবেন সুবর্ণা মুস্তাফা।
দেশের ইতিহাসকে তাদের সামনে তুলে ধরার কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি-না?
অবশ্যই রয়েছে। এরইমধ্যে আমরা দুটি পরিকল্পনাও সাজিয়েছি। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস। এই দিনে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী ও আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি কারাগারের অভ্যন্তরে কারাবন্দিদের দ্বারা অভিনীত এবং পরিবেশন করা হবে। এছাড়াও আগামীবছরের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ৬৮টি কারাগারের অভ্যন্তরে কারাবন্দিদের অংশগ্রহণে মুনির চৌধুরীর কবর নাটক মঞ্চস্থ হবে।
এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। মঞ্চনাটকের বর্তমান অবস্থাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
মঞ্চনাটক নিয়ে অনেকে কাজ করছেন। সেটি নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে আমার মনে হয় মঞ্চনাটকের সঙ্গে সব শ্রেণির মানুষকে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন আছে। পুরো বাংলাদেশে মঞ্চের চর্চাটা প্রয়োজন।
