কারাবাখে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন তুর্কি পার্লামেন্টের

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২০, ২০:৩৯

n শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এটি ভূমিকা পালন করবে :এরদোয়ান

 আল জাজিরা

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান ছিটমহল নিয়ে লড়াই শেষ করার জন্য রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পর তুরস্কের সংসদ নাগোরনো-কারাবাখের একটি পর্যবেক্ষণ পোস্টে রাশিয়ান বাহিনীতে যোগদানের জন্য সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার তুর্কি পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি পাশ হয়। ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির সদস্যরাই এর পক্ষে ভোট দেন। অন্য দুই বিরোধী দল ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি এবং দ্য গুড পার্টির সদস্যরাও এতে সমর্থন দেন।

মূলত দুই দেশের মধ্যে যাতে নতুন করে সংঘাত শুরু না হয় তা নিশ্চিত করতেই কারাবাখে রুশ ও তুর্কি বাহিনী মোতায়েনের কথা উঠে। এরই মধ্যে সেখানে রুশ বাহিনী মোতায়েন হয়েছে। কিন্তু তুরস্কে এটা করতে গেলে তাদেরকে পার্লামেন্টের অনুমতি নিতে হবে। সে কারণেই মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এটি অনুমোদিত হয়। এর ফলে আঙ্কারা এবং মস্কোর সেনাবাহিনী সেখানে এক বছরের জন্য থাকতে পারবে। এ সময়ে তারা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে কি না, তা দেখভাল করবেন। অনুমোদনের আগে সংসদে পাঠানো এক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, সেখানে সামরিক বাহিনী মোতায়েন হলে এ অঞ্চলের সবাই এর উপকার ভোগ করবে। নাগোরনো-কারাবাখ আজারবাইজানের ভেতরে অবস্থিত হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগে পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৬ সালের শুরুতেও সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ।

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরোনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, এ সংঘাতে এরই মধ্যে অন্তত ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। সাবেক সোভিয়েত দেশগুলোর সামরিক জোটের সদস্য আর্মেনিয়া, যার নেতৃত্বে রয়েছে রাশিয়া। আবার আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক। তুর্কি ও আজেরি রাজনীতিকরা দুই দেশের সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করতে একটি বাক্য ব্যবহার করে থাকেন। এটি হচ্ছে, ‘এক জাতি, দুই দেশ।’