দিনাজপুরে জনবলসংকটে নাজুক ট্রাফিক ব্যবস্থা!

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৫

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

এমনিতেই অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা, তার ওপর যোগ হয়েছে ভটভটি, ট্রাক্টর, মালবাহী পিক-আপ আর ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়কে ট্রাক ও পিক-আপ থেকে যখন-তখন মালামাল লোড আর আনলোড করা হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থার বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরে চলাচলকারী মানুষ।

এ বিষয়ে গতকাল বুধবার দিনাজপুরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, শহরে রাত ৮টার আগে ট্রাকসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন প্রবেশের কোনো নিয়ম নেই। যত্রতত্র ট্রাক্টর, ভটভটি ও পিকআপ চলাচল প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, শহরের একটি সড়ক বাদ দিয়ে অন্য সড়কে এসব চলার কথা নয়। তিনি বলেন, তাদের জনবল কিছুটা কমে যাওয়ার কারণে কিছুটা এরূপ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। তিনি জানান, বর্তমানে ৩৭ জন ট্রাফিক কনস্টেবলের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছে ২৪ জন। এর মধ্যে দুই জন দায়িত্ব পালন করেন অফিসে। আর রাস্তায় রয়েছে ২২ জন। তবে সাত জন কর্মকর্তার পদের মধ্যে সাত জনই কর্মরত আছেন বলে জানান তিনি। অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশার ব্যাপারে তিনি বলেন, বেশ কয়েকমাস আগে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে তা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি।

দিনাজপুর পৌরসভার হিসেব মতে, সাড়ে ২৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দিনাজপুর পৌর এলাকায় পাকা সড়ক রয়েছে ১২২ কিলোমিটার (যদিও বেহাল অবস্থা)। আর পাকা, আধাপাকাসহ সবমিলিয়ে মোট সড়ক রয়েছে ১৭৪ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার। শহরের এই সড়কে ৩ হাজার অটোরিকশা চলাচলের উপযোগী হলেও বর্তমানে অটোরিকশা চলছে প্রায় ১৭ হাজার। নিয়ন্ত্রণহীন এসব অটোরিকশা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে প্রতিনিয়ত যানজট বাড়ছে। বেশ কিছু দিন আগে পুলিশ শহরে অটোরিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও পরে তা ঝিমিয়ে পড়ে। অটোরিকশার পাশাপাশি শহরে ট্রাক্টর, ভটভটি, পিকআপ আর ট্রাকের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। দিনাজপুর শহরের সুইহারী থেকে বাহাদুরবাজার সড়ক, মালদহপট্টি, চকবাজারসহ বিভিন্ন সড়কে এসব যানবাহন চলাচল করছে কোনো বাধা ছাড়াই। এর ওপর কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই শহরের বাহাদুরবাজার, মুন্সীপাড়া, বাসুনিয়াপট্টি, চুড়িপট্টিসহ বিভিন্ন স্থানে দিনের বেলায় রাস্তার ওপর চলছে ট্রাক ও পিকআপ থেকে মালামাল লোড আর আনলোড। দিনাজপুর শহরে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত ট্রাকসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেই নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না।

দিনাজপুর শহরের বাহাদুরবাজার সড়কে গতকাল বুধবার আব্দুস সালাম নামে পাহাড়পুর নিবাসী এক পথচারী হাতে ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে জানালেন, শহরের যে অবস্থা, তাতে এই ব্যাগ নিয়ে অটোরিকশায় চড়ে যাওয়ার চেয়ে কষ্ট করে হেঁটে যাওয়াই ভালো। হেঁটে গেলেই আগে যাওয়া যাবে। শহরের যে অবস্থা তাতে ট্রাফিক পুলিশ আছে বলে মনে হয় না। শহরের চারুবাবুর মোড়ে আব্দুর রহমান নামের অপর এক পথচারীও জানান একই কথা। শহরের লিলিমোড় ছাড়া আর কোনো স্থানে তেমন ট্রাফিক পুলিশ দেখা যায় না। আর এ কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে যানজট লেগে থাকলেও দেখার কেউ নেই। পথচারী লক্ষণ সরকার জানান, শহরে এখন সাইকেল নিয়েও চলাচল করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে প্রশাসন ও পৌরসভার মধ্যে বৈঠক হয়েছে। এসব যানবাহন নিয়ম মেনে চলার জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না।