উহাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ২০:৩২

একটি সরকারের কেবিনেট থাকে, নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থাকে। কেবিনেট সদস্যরা প্রধান নির্বাহী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। যেহেতু রাজনৈতিক সরকার, তাই তাহাদের নিয়োগ হইয়া থাকে রাজনৈতিক বিবেচনায়। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদে আইন পাশসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি মানুষের সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকেন। অন্তত তাহাই করিবার কথা। পক্ষান্তরে রহিয়াছে  প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। ইহারাই মূলত দেশের মূল কাঠামো। অর্থাত্ একটি দেশকে একটি শরীরের সঙ্গে তুলনা করিলে সরকার যদি হয় চর্ম-রক্ত-মাংস, তাহা হইলে প্রশাসন অস্থিমজ্জার কাঠামো। আমরা পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ করি,  চর্ম-মাংসে অসুস্থতা দেখা দিলে তাহা যতটা দৃশ্যমান হইয়া উঠে, অস্থিমজ্জার অসুস্থতা ততটা দৃশ্যমান হয় না। বরং অনেক সময়েই অস্থিমজ্জা তথা প্রশাসনের দুর্বলতাকে রাজনৈতিক সরকারের দুর্বলতা বলিয়া বিবেচনা করা হয়। এমন নহে যে সরকারে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাহারো কাহারো দুর্বলতা নাই। কিন্তু প্রশাসনের দুর্বলতা ঊহ্য রাখিয়া প্রায়শই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দোষারোপ করা হয়। এমনকি প্রশাসনের লোকেরাও রাজনীতিবিদদের ঘাড়ে বন্দুক রাখিয়া বৈতরণী পার হইয়া যান।

উপরিউল্লিখিত কথাগুলি আসিল দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কিছু খোলামেলা বক্তব্যকে কেন্দ্র করিয়া। তিনি বলিয়াছেন, ‘গোপনে কানাডার টরোন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। আমার ধারণা ছিল, রাজনীতিবিদদের সংখ্যাই বেশি হবে। কিন্তু যে তথ্য পেয়েছি তাতে অবাক হয়েছি। সংখ্যার দিক থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে এবং তাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে থাকে।’ তিনি জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশেও খোঁজ লওয়া হইতেছে।

আমরা দীর্ঘকাল ধরিয়া দুর্নীতির ঘোড়া ছুটিতে দেখিতেছি। দেশ হইতে হাজার হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার করিতেছেন একধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিনিময়ে আমরা পাইতেছি ১০ টাকার পণ্য ক্রয়ে সরকারের ২০০ টাকা ব্যয়। সেতু তৈরিতে লোহার বদলে বাঁশ ব্যবহার। হাজার হাজার কোটি টাকা সরকার খরচ করিবার পরও পানি সরবরাহ, বিদ্যুত্ সরবরাহে বিঘ্ন। নূতন তৈরি সড়কের দুই দিনেই বেহাল দশা। এই সকল কাজের সাধারণত ঠিকাদারি কাজ লইয়া থাকে বিভিন্ন কোম্পানি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাহারা শর্ত মানিয়া কাজ করিবার কথা থাকিলেও সঠিক উপাদান ব্যবহার করেন না। কেন? তাহার কারণ প্রশাসনের যোগসাজশ। ঘুষ-দুর্নীতির কারণে সরকার তথা জনগণ এই ক্ষতির সম্মুখীন হইয়া থাকে। ইহাও ঠিক যে জনগণের এই সকল দুর্নীতি সম্পর্কে  কমবেশি ধারণা আছে। কিন্তু দেখা যায় এই সকল দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা অধিকাংশ সময়েই ধরাছোঁয়ার বাহিরেই থাকিয়া যাইতেছে। যেই কারণে দিনে দিনে প্রসার ঘটিতেছে অনিয়ম-দুর্নীতির। যদি সত্যিই উন্নয়ন ব্যয়ের সুফল পাইতে হয়, তাহা হইলে যে করিয়াই হউক এই প্রবণতা রুখিতে হইবে। আর সেই কাজটি করিবার ক্ষমতা কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপরই নির্ভর করে। সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টা যাহাদের দ্বারা বিঘ্নিত হইতেছে তাহাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করিয়া আইনের সম্মুখীন করিতে অসুবিধা কোথায় তাহা আমাদের আজও বোধগম্য নহে।