দেশে রেমিট্যান্স আহরণকারী প্রবাসীদের বৃহত্ অংশ ঋণ করে বিদেশে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় অভিবাসী কর্মীরা ব্যয়ের ৭৮ শতাংশই আত্মীয়স্বজন, বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও, মহাজন, ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ করেছেন। যে খরচে তারা বিদেশে যাচ্ছেন, তার অর্থ তুলে আনতেই লেগে যায় প্রায় ১৭ মাসের বেশি। অভিবাসন ব্যয় নিয়ে প্রথমবারের মতো জরিপ করেছে বিবিএস। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সময়ে যারা অভিবাসী হয়েছেন, তাদের পরিবারের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে জরিপটি করা হয় গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে। সম্প্রতি এর ফলাফল চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এতে দেখা যায়, যারা প্রবাসে গেছেন, তাদের ৬৩ শতাংশেরই বিমার ব্যবস্থা নেই। ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় সম্পত্তি বা জামানতের মালিকানা হারিয়েছেন ১৩ শতাংশ অভিবাসী। তবে একজন অভিবাসীর সবচেয়ে বেশি খরচ পড়ে সিঙ্গাপুর যেতে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সময়কালে দেশের মোট অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ৩ হাজার। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ ছিলেন পুরুষ। ৪ লাখ বা ১৫ শতাংশ ছিলেন নারী। জরিপটির মাধ্যমে অভিবাসীদের আর্থসামাজিক ও জনমিতির অবস্থা, ঋণের উত্স, ঋণ পরিশোধ, শ্রম অভিবাসীদের শিক্ষার অবস্থা ইত্যাদি বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিবাসী কর্মীদের সংখ্যা বিবেচনায় দেশের প্রধান উত্স জেলা হলো—কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালী ও ময়মনসিংহ।
জরিপ অনুযায়ী একজন অভিবাসীর সবকিছু মিলে বিদেশ যেতে গড় খরচ হচ্ছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৯ টাকা। একজন নারী কর্মীর গড় অভিবাসন খরচ ১ লাখ ১০২ টাকা। আর একজন পুরুষ অভিবাসীর খরচ ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৬৮ টাকা। অর্থাত্ অভিবাসী কর্মী হিসেবে পুরুষদের নিয়োগ ব্যয় নারীদের তুলনায় চার গুণ বেশি।
জরিপ অনুযায়ী, একজন অভিবাসী কর্মীর বিদেশ যেতে মোট যে টাকা খরচ হয়, তা ঐ অভিবাসী কর্মীর প্রায় ১৭ দশমিক ৬ মাসের আয়ের সমান। নারীদের খরচ তুলে আনতে লাগে গড়ে ৫ দশমিক ৬ মাস, একজন পুরুষের সময় লাগে গড়ে ১৯ মাস। অভিবাসী কর্মীর মাসিক গড় আয় ২৯ হাজার ৮৫৫ টাকা। এর মধ্যে নারী কর্মীর মাসিক আয় ২০ হাজার ২১১ টাকা, পুরুষ কর্মীর মাসিক আয় ৩২ হাজার ৫৪২ টাকা। একজন অভিবাসী সবচেয়ে বেশি আয় করেন সিঙ্গাপুরে, সেখানে মাসিক গড় আয় ৪৬ হাজার ৮৯৫ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গড় আয় মালয়েশিয়ায় ২৯ হাজার ৭২৩ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে কাতার ২৯ হাজার ১৭৪ টাকা।
জরিপে দেখা গেছে, দেশ থেকে যারা প্রবাসে যান, অভিবাসন ব্যয় মেটাতে বন্ধু বা আত্মীয়স্বজন থেকে টাকা নেওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ বলেছেন, বন্ধু বা আত্মীয়স্বজন থেকে টাকা নিয়েছেন, ২৮ শতাংশ পরিবারের সদস্য থেকে টাকা নিয়ে খরচ মিটিয়েছেন। এনজিও থেকে নিয়েছেন ২০ শতাংশ আর মহাজন থেকে ১৫ শতাংশ।
জরিপে অংশ নেওয়া ৫৩ শতাংশ পরিবার বলেছে, অভিবাসী কর্মী যে দেশে গেছেন, সেখানকার নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে কোনো চুক্তি নেই। অভিবাসী কর্মীর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি চুক্তি আছে সিঙ্গাপুরের নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে। এরপর আছে মালয়েশিয়া, কাতার, সৌদি আরব ও ওমান।
