যমুনায় জেগে উঠেছে চর ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৫

চলতি খরা মৌসুমে যমুনার বুকে জেগে ওঠা একেকটি চর এখন বলতে গেলে দ্বীপে পরিণত হয়েছে! শাহজাদপুরের গালা ইউনিয়ন থেকে জালালপুর খুকনী ইউনিয়ন হয়ে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর হতে ভূঞাপুর বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়েকটি চ্যানেলে ভাগ হয়ে যমুনার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। চর জেগে উঠেছে উপজেলার গালা, সোনাতনী ও কৈজুরী এই তিনটি ইউনিয়নে। এতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দীর্ঘ বালুচর পাড়ি দিতে চরের বাসিন্দাদের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত নাব্যতা না থাকার কারণে যমুনা নদীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মাঝ নদীতেই আটকে যাচ্ছে নৌকা। নদীতে চর জেগে উঠায় নৌকাগুলো বিভিন্ন পয়েন্টে রেখে দিয়েছে মালিকরা। দু-একটি নৌকা পালা-বদল করে চলাচল করছে। নির্ধারিত কোনো ঘাট না থাকায় নৌকা চালকরা সুবিধামত মানুষ নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে কষ্ট করে নৌকায় ওঠানামা করতে হচ্ছে চরের বাসিন্দাদের।

জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙনে বাস্তুহারা হয় শত শত পরিবার। আবার শুষ্ক মৌসুমে বিশাল চর জেগে উঠে। ভরা বর্ষায় চরের বাসিন্দাদের যাতায়াতের তেমন ভোগান্তি না হলেও শুষ্ক মৌসুমে পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। শিক্ষার্থীরা হেঁটে বিশাল চর পাড়ি দিয়ে নৌকা ঘাটে এসে এরপর তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।

চরাঞ্চলের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, কাইয়ুম, আকতার, মৌসুমি, সবুরা খাতুন, আলী হোসেন প্রমুখ জানান, চরে বসবাসের কষ্ট সীমাহীন। এখন খরা মৌসুম তাই মাইলের পর মাইল হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। যাতায়াতের সমস্যার কারণে হাসপাতালে রোগী আনা-নেওয়া সম্ভব হয় না। চরে বাড়ি শুনলে এখন আর কেউ মেয়ে-ছেলে বিয়ে করতে চায় না। তাদের অভিযোগ চরে যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতায়াত, দুর্যোগকালীন নিরাপত্তাসহ অনেক সমস্যা থাকলেও তারা উন্নয়ন বঞ্চিত। চরের চারিদিক বেড়িবাঁধ দিয়ে যমুনার ভাঙন ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে চরের মানুষকে রক্ষার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার দাবির কথা জানান তারা।

বড় চানতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নদীতে চর জেগে ওঠায়। শুধু বন্যার সময় নৌকায় করে একটানা যাতায়াত করা যায়। আর এখন ১০ টাকা দিয়ে নৌকায় নদী পার হয়ে পরবর্তিতে দুই কিলোমিটার হেঁটে যেতে হচ্ছে।

যমুনা চরের সোনাতনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. লুত্ফর রহমান বলেন, যমুনানদীর বুকে জেগে উঠেছে বড় বড় চর। আর তাই আধাঘণ্টার পথ পেরিয়ে আসতে ২ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। কয়েকটি চ্যানেলে বিভক্ত হওয়ায় জামিরতা ও কুৈজরী ঘাট থেকে বানতিয়ার বাজার, ছোট চানতারা, বড় চানতারা বাজারে আসতে ৩ ঘণ্টা সময় লাগছে। ফলে চরবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।