পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

স্থাপনের এক বছরেও চালু হয়নি সিটিস্ক্যান মেশিন

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৭

পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কাম পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিটিস্ক্যান মেশিন স্থাপনের পর প্রায় এক বছর পরেও এখনো তা চালু করা যায়নি। এ বছরের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মেশিনটি বসানো হয়েছিল। হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুধু বিদ্যুত্-সংযোগের অভাবে অত্যাধুনিক এ মেশিনটি রোগীদের কোনো কাজে আসছে না। মূল্যবান মেশিনটি অচলাবস্থায় পড়ে থাকায় উচ্চব্যয়ে রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সিটিস্ক্যান করাতে হচ্ছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান অফিস সহায়ক মো. রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার ইত্তেফাককে বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক সিটিস্ক্যান মেশিনটি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বরাদ্দ দেয়। তোশিবা-১৬০ মডেলের এই মেশিনটি গত জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বসানো হয়। নিচতলায় এক্সরে বিভাগের পাশের কক্ষে এটি স্থাপন করা হয়েছে। মেশিনটি চালানোর জন্য এক জন টেকনিশিয়ানকেও পদায়ন করা হয়েছে। শুধু বিদ্যুত্ সরবরাহ না থাকায় মেশিনটি পড়ে আছে। তিনি জানান, হাসপাতালে ২২০ ভোল্টের বিদ্যুত্-সংযোগ রয়েছে। কিন্তু এই মেশিন চালানোর জন্য ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুত্-সংযোগ প্রয়োজন। এদিকে হাসপাতালের সিটিস্ক্যান বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, রোগীরা সেবা না পেলেও সচল রাখার স্বার্থে প্রতিদিন ব্যাটারি চার্জ করে মেশিনটি চালু করে। এই ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রগুলোও সচল রাখতে হয়। সিটিস্ক্যান মেশিন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত টেকনিশিয়ান মো. কহিদুল ইসলাম বলেন, মেশিনটি সচল রাখতে প্রতিদিন মেশিন চালু করতে হয়। হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুত্-সংযোগ না থাকায়, হাই-ভোল্টেজ ব্যাটারি চার্জ করেও প্রতিদিন মেশিনটি চালু করতে হয়।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আইয়ুব হোসেন বলেন, তিনি এখানে কয়েক দিন হলো যোগ দিয়েছেন। তিনি শুনেছেন, গণপূর্ত বিভাগ আর বিদ্যুত্ বিভাগের উদাসীনতায় সিটিস্ক্যান মেশিনটি চালু করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম বলেন, ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের জন্য হাসপাতালে এরই মধ্যে পাওয়ার সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। সাব-স্টেশন নির্মাণের সব কাজ শেষ হয়েছে। এখন বিদ্যুত্-সংযোগের জন্য বিদ্যুত্ বিভাগকে কাজ করতে হবে। সংযোগের জন্য নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানিকে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তারা বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন স্থাপন করলেই হাসপাতালে সংযোগ প্রদান করা হবে। স্থানীয় বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানায়, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।