আগুন-সন্ত্রাস তাদের প্ল্যানড গেম

বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বিএনপি

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ২২:৫৮

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। আগুন-সন্ত্রাস তাদের প্ল্যানড গেম। এখন যে নির্বাচনগুলো হচ্ছে সেখানে তারা নামকা ওয়াস্তে ক্যান্ডিডেট দেন, খুব হই চই করেন। যেদিন নির্বাচন সেদিন দুপুরে পরাজয়ের ভয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এটাও তাদের একটা পরিকল্পিত খেলা। আমরা এখন জানি তারা এটাই করবে। কারণ তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী                 গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সবাইকে ঘরের বাইরে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে নানা গবেষণা চলছে। ১ হাজার কোটি টাকা দিয়ে করোনার আগাম ভ্যাকসিন অর্ডার করেছে সরকার এবং যখনই ভ্যাকসিন বাজারে আসবে বাংলাদেশ পাবে।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস পরবর্তী সময়ে যেন খাদ্য সংকট তৈরি না হয় এ জন্য উত্পাদন বাড়াতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ করোনা পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, এমনকি অনেক উন্নত দেশে প্রবৃদ্ধি মাইনাসের দিকে চলে গেছে। কিন্তু আমরা ধরে রাখতে পেরেছি। তিনি বলেন, করোনা শনাক্তের পর থেকে দ্রুত এবং সুদূর প্রসারী ও পরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে তার সরকার সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবারও করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আবার একটা ধাক্কা আসছে।’ এক্ষেত্রে মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আবারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের সমালোচনার নামে দেশে-বিদেশে অপপ্রচার চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় বিএনপিসহ সুবিধাবাদী শ্রেণির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘অপপ্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং বিদেশে গিয়ে বিদেশিদের কাছে অপপ্রচার করা, আজেবাজে কথা বলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বদনাম করে আসা, এটা দুর্ভাগ্যজনক এবং তারা ঠিক (বিএনপি) এই কাজটাই করে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ভালো কাজ করলে সেটা একটু স্বীকার করবেন। আর আপনারা যা ইচ্ছা লিখতে পারেন, এতে হয়তো পত্রিকার কাটতি বাড়বে। হয়তো এনজিও’র জন্য বিদেশি ফান্ড আসবে।

বিএনপি ও বিভিন্ন এনজিও’র প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কিছু বলে সংগঠনের জন্য বাইরে থেকে ভালো ফান্ড আনতে পারবেন, বাংলাদেশকে এখনো দরিদ্র, ক্ষুধার্ত বা গরিব দেখিয়ে ফান্ড আনতে পারবেন। তবে এই ফান্ডটা যায় কোথায়, কি কাজে ব্যবহার হয় তারও একাউন্টেবিলিটি থাকতে হবে, তারও হিসেব দিতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু কথা বলে লাভ নেই (ঢালাও সমালোচনা), ভবিষ্যতে সেই হিসেবটাও আমরা আস্তে আস্তে নিতে শুরু করব।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার করে দেওয়া ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রযুক্তির উত্কর্ষ এবং অবাধ বাক স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে মিডিয়াতে সরকারের ঢালাও সমালোচনার তীব্র নিন্দা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি আমাদের এক ধরনের শহুরে লোক রয়েছে। আমরাই ডিজিটাল করে দিয়েছি, বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিয়েছি, সবার হাতে মোবাইল ফোন দিয়ে দিয়েছি। এখন আমাদের দেওয়া জিনিস ব্যবহার করেই তারা বলছে যে, এটা হলো, ওটা হলো না, তাদের কেউ দেখছে গণতন্ত্রই নাই।’ তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে জিগ্যেস করতে ইচ্ছে করে, তাহলে জিয়াউর রহমান যখন হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মার্শাল ল’ দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল তখন কি গণতন্ত্র ছিল! নাকি ১৫ ফেব্রুয়ারি (’৯৬ সালে) নির্বাচনে খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে ক্ষমতায় গেল ওটা গণতন্ত্র!’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি-অনিয়ম করে উপার্জিত অর্থসম্পদ মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজে আসে না— করোনা ভাইরাস এই শিক্ষাই দিয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী দলের নেতাকর্মীদের তার বয়সের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি আবারও বলব, চিরদিন কেউ বেঁচে থাকে না। আমিও থাকব না। কারণ আমারও তো বয়স হয়ে গেছে। ৭৪ বছর পার হয়ে গেছে, এটি মনে রাখতে হবে; এই বয়স অনেক বেশি।’

দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চলছে : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চলছে। ফেসবুক-ইউটিউবে অপপ্রচার চলছে? এসবের ওপর ভিত্তি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি।’ যে কোনো অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ধর্ম নিরপেক্ষতার চেতনার বাইরে যাওয়ার আমাদের সুযোগ নেই। দুই-এক দিনের মধ্যে উপকমিটি দেওয়া হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোনো একজন একাধিক পদে থাকতে পারবে না। মহানগরসহ সহযোগী সংগঠনগুলোতেও যদি কোনো ব্যক্তি সদস্য পদেও থাকে তিনি সাব-কমিটিতে থাকতে পারবেন না।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, আইন সম্পাদক নজিবুল্লা হীরু, অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, স্বাস্থ্য সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।