মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের দাবি

আনিসুলের চিকিত্সায় ছিলেন না ডা. মামুন

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ২৩:০৩

বেসরকারি মাইন্ড এইড হাসপাতালের কর্মীদের মারধরে নিহত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিমের চিকিত্সার কোনো পর্যায়ে চিকিত্সক আবদুল্লাহ আল মামুনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে জানিয়েছে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। তবে পুলিশ বলছে, আনিসুল প্রথমে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে ডা. মামুনই তাকে বেসরকারি মাইন্ড এইড হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঐ হাসপাতাল থেকে ১৬ মাসে ১০ লাখ টাকা কমিশন নিয়েছেন ডা. মামুন। তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের রিমান্ডে এ তথ্য জানিয়েছেন বলে গতকাল ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান। 

এদিকে ডা. মামুনের গ্রেফতারের প্রতিবাদে দুই দিন নিজেদের চেম্বারে রোগী না দেখার ঘোষণা দিয়েছেন মনোরোগ চিকিত্সকেরা। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল জানিয়েছে, আনিসুল করিমের চিকিত্সায় ডা. মামুনের সংশ্লিষ্টতা না থাকার বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছে তারা। হাসপাতালের পরিচালক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদনে এটা প্রতীয়মান হয় যে উক্ত রোগীর চিকিত্সাসংক্রান্ত কোনো পর্যায়েই ডা. মামুনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এতে আরো বলা হয়েছে, ৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এএসপি আনিসুল করিমকে উত্তেজিত অবস্থায় তার ভগ্নিপতি ডা. রাশেদুল হাসান রিপন ও পুলিশের কিছু সদস্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সে সময় দায়িত্বরত চিকিত্সক রোগীর ভগ্নিপতির সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে জরুরি ভিত্তিতে শান্ত করার জন্য উত্তেজনা উপশমকারী ইঞ্জেকশন দেন এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেদিন বেলা ৯টার দিকে রোগীর ভগ্নিপতি ও উপস্থিত স্বজনেরা হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক শাহানা পারভীনের সঙ্গে দেখা করেন। আর রোগীর ভগ্নিপতি ডা. শাহানা পারভীনের পূর্বপরিচিত। শাহানা পারভীন রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু তার ভগ্নিপতিসহ অন্য স্বজনেরা তাকে ভর্তি করতে অসম্মত হন বলে দাবি করেছে হাসপাতাল। বিষয়টি ডা. শাহানা পারভীন রোগীর আউটডোর টিকিটেও লিখে দিয়েছেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ডা. শাহানা পারভীন আউটডোর টিকিটে প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে দেন। রোগীর সঙ্গে আগত পুলিশ সদস্যদের সিসিতে আউট লিখে স্বাক্ষর দেন। তারপর রোগী আনিসুল করিম, তার বোন, ভগ্নিপতি এবং আগত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতাল ছেড়ে যান।

এদিকে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাইন্ড এইডে রোগী পাঠিয়ে ১৬ মাসে ১০ লাখের বেশি টাকা কমিশন নিয়েছেন ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একজন উপপরিচালক ও কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের এক আবাসিক চিকিত্সকের রোগী ভাগানোতে জড়িত থাকার তথ্যসহ আরো বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন মামুন।

ডা. মামুনের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার লোক সেট করা আছে। সচ্ছল রোগী দেখলেই তারা রোগীর স্বজনদের বলেন, এখানকার চিকিত্সা ভালো নয়, এখানে চিকিত্সা নিলে রোগী আরো অসুস্থ হবে। এসব বলে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন এই বলে যে তিনি (ডা. মামুন) সহযোগিতা করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ডা. মামুন জানান, মাইন্ড এইডে পাঠালেই ৩০ পারসেন্ট কমিশন পেতেন তিনি। প্রতি রোগী থেকে তার কমিশন আসত ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া মাইন্ড এইডে রোগীও দেখতেন মামুন। সেখান থেকেও আলাদা টাকা পেতেন। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি শুধু মাইন্ড এইডে ২৫ জনের বেশি রোগী পাঠিয়েছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ডা. মামুন মাইন্ড এইড হাসপাতাল ছাড়াও আদাবরের মাইন্ড ওয়েল হাসপাতালেও রোগী পাঠাতেন। টাঙ্গাইলে ঢাকা ক্লিনিক নামের একটি হাসপাতালে রোগী দেখতেন তিনি।

ডা. মামুন জিজ্ঞাসাবাদে বলেন, ‘আমি তো একা নই। সরকারি হাসপাতালের অনেক ডাক্তারই তো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠান।’