বিশ্বের অনেক দেশেই করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বুধবার বিশ্বে করোনায় ৬ লাখ ১৫ হাজার ১৭৭ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৯৭০ জনের। এদিকে বায়োএনটেক ও ফাইজার তাদের ভ্যাকসিনের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আজ শুক্রবার আবেদন করছে। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের পরীক্ষায়ও কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ভ্যাকসিন ছাড়াই করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে হবে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
বুধবার করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এদিন আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ১৬১ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮৪৮ জনের। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সর্বোচ্চ ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮৩ জনে। রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
জরুরি ব্যবহারের আবেদন করছে বায়োএনটেক ও ফাইজার
জার্মান কোম্পানি বায়োএনটেকের সিইও উগুর সাহিন সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ফাইজার ও তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) কাছে আজ শুক্রবারই আবেদন করা হবে। তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে তাদের ভ্যাকসিন ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সিইও সাহিন বলেন, ব্যবহারের অনুমোদন মিললে বছর শেষ হওয়ার আগেই টিকা সরবরাহ শুরু করতে পারব। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে আগামী বছরের মাঝামাঝি করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এদিকে সোমবার মডার্না ও ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ তাদের টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে দাবি করে। আগামী ২৫ নভেম্বর নাগাদ মডার্না টিকা ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগবিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচি বলেন, বছরের শেষ নাগাদ মার্কিনিরা টিকা পেতে শুরু করবেন।
দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়ালে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন কার্যকর
বয়স্কদের শরীরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকার ফল ‘প্রতিশ্রুতিশীল’ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। অক্সফোর্ডের এই টিকার লাইসেন্স আছে বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার নামে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ অক্সফোর্ডের টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, তৃতীয় ধাপে অক্সফোর্ডের টিকা আরো বড় পরিসরে এবং আরো বেশি মানুষের দেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হচ্ছে।
তবে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ভ্যাকসিন ছাড়াই মোকাবিলা করতে হবে বলে জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও’র জরুরিবিষয়ক পরিচালক মাইকেল রায়ান। তার মতে, ভ্যাকসিনকে একক কোনো জাদুকরী সমাধান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এ সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন এসে পৌঁছাবে না। ভার্চুয়াল প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, যে কোনো জায়গায় উল্লেখযোগ্য হারে ভ্যাকসিন পৌঁছাতে চার থেকে ছয় মাস সময় লাগবে। অথচ অনেক দেশে করোনা দ্বিতীয় সংক্রমণ ঢেউ চলছে।
