ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বাজারের বর্জ্য ফেলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর খালটি দিনদিন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। খালের পানি দূষিত হচ্ছে এবং ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্যে খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা কমছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই খালটি ‘শহর খাল’ নামেই চেনে শহরবাসী। শহরের টানবাজার ও কান্দিপাড়া এলাকা দিয়ে তিতাস নদী থেকে উত্পত্তি হয়ে খালটি শহরের কাজীপাড়া, মধ্যপাড়া, পৈরতলা হয়ে গোকর্ণঘাট গ্রামের পাশ দিয়ে আবার তিতাস নদীতেই মিলিত হয়েছে। এক সময় এই খালের পানিতে গোসল করত খালপাড়ের বাসিন্দারা। বর্ষাকালে এই খাল দিয়ে চলাচল করত বাহারি রঙের নৌকা। শহরের বড় বড় ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকা দিয়ে পণ্য এনে এই খালের টানবাজার এলাকায় নৌকা নোঙর করত। এখন আর খালের আগের জৌলুস নেই। খালটি এখন মৃত প্রায়। এই খালে এখন আর নৌকা চলে না। গোসলও করে না কেউ।
খালটির দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। তবে জেলা পরিষদের মানচিত্র ও খতিয়ান অনুযায়ী ২০৫ ও ২৬২ দাগে খালের আয়তন ৮ দশমিক ৩৫ একর। খালটি জেলা পরিষদের হলেও এর গভীরতা ও প্রশস্ততার কোনো হিসাব জেলা পরিষদের কাছে নেই। পৌরসভার উদ্যোগে ২০০৮-২০১২ সাল পর্যন্ত সৌন্দর্যবর্ধনের নামে শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে ঘোড়াপট্টির পুল (ফকিরাপুল) পর্যন্ত খালের দুই পাড়ে সিসি ব্লক, ফুটপাত ও রেলিং স্থাপন করা হয়। সৌন্দর্যবর্ধনের পরে জেলা পরিষদ কিংবা পৌরসভা কেউই খালের রক্ষণাবেক্ষণ করেনি। খালপাড়ের বাসিন্দারা জানান, এক সময় বর্ষাকালে খালের পানিতে গোসলসহ গৃহস্থালির কাজ করতেন। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্যের কবলে পড়ে এবং সংস্কার ও খননের অভাবে বর্ষাকালেও এখন খালে আগের মতো পানি আসে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার একজন প্রকৌশলী জানান, এক সময় শহরের খালের গভীরতা ছিল ২২/২৩ ফুট। কিন্তু আবাসিক এলাকা, খাবার হোটেল ও বাজারের ফেলা বর্জ্যে তা দখল হয়ে ১৫ ফুট হয়ে গেছে। আর মধ্যপাড়া থেকে সরকারপাড়া পর্যন্ত খালের গভীরতা ৮-১০ ফুট। প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বাজারের বর্জ্য এনে খালের মধ্যে ফেলা হয়। এছাড়া শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ২০টি ড্রেনের সঙ্গে রয়েছে খালটির সংযোগ। ড্রেন দিয়েও প্রতিদিন প্রচুর ময়লা এসে খালে পড়ে। রাতের বেলা শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁ এবং খালের আশপাশ এলাকার বাড়ি-ঘরের ময়লা-আবর্জনা এনে খালে ফেলে।
পৌর এলাকার কান্দিপাড়ার শাহিন, কামরুল, ইমন ও কাজীপাড়া দরগা মহল্লার বাসিন্দা ফিরুজ, মামুন বলেন, ৩০ বছর ধরে আমরা এই এলাকায় বসবাস করছি। আগে খালে খরস্রোতা পানি প্রবাহিত হতো। বর্ষাকালে খাল দিয়ে বাহারি রঙের নৌকা চলাচল করত। খালপাড়ের বাসিন্দারা খালের পানিতে গোসল করত, মাছ ধরত। বর্জ্যে দখলে নষ্ট হয়ে যাওয়া এই খাল এখন শুধুই স্মৃতি। ইতিমধ্যেই খালের বিভিন্ন অংশে দখলবাজরা দখল করে বহুতল বিশিষ্ট ইমারতসহ বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে ফেলেছে। তারা খালটি পুনরুদ্ধার ও বাঁচানোর দাবি জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র মিসেস নায়ার কবির বলেন, বারবার রেস্টুরেন্ট মালিক ও বাড়ির মালিকদের এ বিষয়ে বলে আসছি কিন্তু তারা কথা শুনেনা। রাতে ময়লা ফেলে খালটিকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
