ধারাভাষ্যে পুরোনো মুখ, নেই স্পাইডার ক্যাম

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৭

বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ

জান-ই-আলম

দেশীয় জনবল, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বিচারে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের সম্প্রচারের মান ভালোই ছিল। আসন্ন বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপও বর্ষপঞ্জির বাইরে বিসিবির আয়োজিত টুর্নামেন্ট। যার সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে দেশের প্রথম ও একমাত্র স্পোর্টস চ্যানেল টি-স্পোর্টস। এই টুর্নামেন্ট দিয়ে দেশের ক্রিকেটে তাদের অভিষেক হবে।

সম্প্রচারে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) মান ধরে রাখার চেষ্টা করবে টি-স্পোর্টস। করোনা ও জৈব সুরক্ষা বলয়ের কারণে কিছু সীমাবদ্ধতার মুখে পড়বে সম্প্রচার কার্যক্রম। তবে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপের সম্প্রচারে থাকছে না স্পাইডার ক্যাম প্রযুক্তি। গ্যালারিতে না থাকলেও অনলাইন প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে দর্শকদের যুক্ত রাখার পদক্ষেপ নিচ্ছে টি-স্পোর্টস।  

বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপের ধারাভাষ্যকার প্যানেলটা থাকছে আগের মতোই। বিদেশি জনপ্রিয় তারকা ধারাভাষ্যকারদের কাউকে দেখা যাবে না। টুর্নামেন্টের জন্য বিসিবির নিয়োগ দেওয়া ৮ ধারাভাষ্যকারের মধ্যে দেশীয় পাঁচ জন ও বিদেশি তিন জন। বিদেশিদের মধ্যে একজন নারী ধারাভাষ্যকার আছেন। দেশীয়দের মধ্যে শামীম আশরাফ চৌধুরী, আতহার আলী খান, শাহরিয়ার নাফিস, মাহজার উদ্দিন অমি ও সমন্বয় ঘোষ থাকছেন। বিদেশিদের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের নেইল ও’ব্রায়েন, জিম্বাবুয়ের এডওয়ার্ড রেইন্সফোর্ড ও ভারতের আনজুম চোপড়া থাকবেন।

করোনার কারণে বিদেশি বিখ্যাত ধারাভাষ্যকারদের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বিসিবির পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘এখন তো করোনার মধ্যে কেউ আসতেই চায় না। করোনা পরিস্থিতির কারণে ভালো ধারাভাষ্যকার পাওয়া যায় না। এবং অনেক দেশে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে। আমরা তো হঠাত্ করেই টুর্নামেন্টটা করছি। সামনে টুর্নামেন্টের মধ্যে কাউকে আনা যাবে কি না, আমি নিশ্চিত নই। কারণ করোনায় আমাদের বায়ো বাবল আছে।’

টুর্নামেন্টের সম্প্রচার সম্পর্কে জানতে চাইলে টি-স্পোর্টসের হেড অব অপারেশন্স তানভীর খান গতকাল বলেছেন, ‘এবার বিপিএলের চেয়ে খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। শুধু স্পাইডার ক্যামটা আসতেছে না। আর মহামারির এই সময়ে চাইলেও আমরা অনেক কিছু বাইরে থেকে আনতে পারছি না। আমরা চেষ্টা করব বিপিএলে যে মান ছিল, সেই মানের কাছাকাছি রাখতে।’

বায়ো বাবল তথা জৈব সুরক্ষা বলয়ের কারণে খেলা চলাকালীন অনেক পরিকল্পনাই বাদ দিতে হচ্ছে টি-স্পোর্টসকে। তানভীর খান আরো বলেছেন, ‘বায়ো বাবলের কারণে আমাদের মাঠে প্রবেশও যেহেতু সীমিত থাকবে, সেক্ষেত্রে ফ্ল্যাশ ইন্টারভিউগুলো আমরা হয়তো মাঠের মাঝখানে গিয়ে করতে পারব না। আমরা দূরত্ব বজায় রেখে খেলার শুরুতে একটা-দুইটা ফ্ল্যাশ ইন্টারভিউ করব।’

দর্শকদের জন্যও টি-স্পোর্টসের কিছু কার্যক্রম থাকছে। তানভীর খান বলেছেন, ‘টোটাল ম্যাচের মধ্যে আমরা নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছি। ভার্চুয়ালি সমর্থকদের এনগেজ করার চেষ্টা করছি। আমরা একটা প্রেডিকশন রাখব, সেটা মাঝেমধ্যেই তাদের দেখানো হবে। সঙ্গে কুইজ থাকবে, সেটা টুইটারে। সারা বিশ্বের যারাই দেখবে অংশ নিতে পারবে।’ এই টুর্নামেন্টের সম্প্রচারে ৮০ ভাগই বিদেশি ক্রু থাকবেন। করোনা পরীক্ষার পর ধারাভাষ্যকার ও ক্রুরা দলগুলোর সঙ্গে আগামীকাল হোটেলে উঠে যাবে।