মুসলিমদের ‘ফ্রান্সের মূল্যবোধ’ মেনে নিতে আলটিমেটাম

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩৬

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সের মুসলিম নেতাদের শীর্ষ সংগঠন ফ্রেঞ্চ কাউন্সিল

অব দ্য মুসলিম ফেইথকে ১৫ দিনের এই সময়সীমা বেঁধে দেন

বিবিসি ও আলজাজিরা

ফ্রান্সের ‘প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ’ মেনে নেওয়ার জন্য দেশটির মুসলিম নেতাদের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সের মুসলিম নেতাদের শীর্ষ সংগঠন ফ্রেঞ্চ কাউন্সিল অব দ্য মুসলিম ফেইথকে (সিএফসিএম) ১৫ দিনের এই সময়সীমা বেঁধে দেন। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে ফ্রান্সে কট্টর ইসলামপন্থিদের তিনটি হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি।

বুধবার এলিসি প্যালেসে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্দ দারমানিন আট জন সিএফসিএম নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত একটি ফরাসি পত্রিকা জানায়. ‘(সনদে) দুটি মূলনীতি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা থাকবে : রাজনৈতিক ইসলাম প্রত্যাখ্যান এবং যে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ।’ ওই বৈঠকে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইমামস প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মুসলমান বাস করে।

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ যাকে ‘ইসলামি বিচ্ছিন্নতাবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেই বিষয়টি প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এসব পদক্ষেপের মধ্যে থাকছে একটি আইন প্রণয়ন, যার লক্ষ্য হবে মৌলবাদকে প্রতিহত করা। হোম-স্কুলিং বা ঘরে থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ধর্মীয় কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানো হলে আরো কঠিন শাস্তির বিধান।

নতুন আইনের অধীনে শিশুদের একটি পরিচিতি বা আইডেন্টিফিকেশন নম্বর প্রদান করা, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যাবে যে তারা স্কুলে যাচ্ছে কি না। যেসব অভিভাবক এই আইন অমান্য করবে, তাদের বড় অঙ্কের জরিমানাসহ ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হতে পারে। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য, যার মাধ্যমে তার ক্ষতি করা সম্ভব হতে পারে, সেই ধরনের তথ্য শেয়ার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা। প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি নিয়ে ৯ ডিসেম্বর ফরাসি মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে।