চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বুড়িগঙ্গার ভাসমান আবাসিক হোটেল মালিকরা

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২০, ২২:০৬

বুড়িগঙ্গা নদীর বাদামতলী ও মিটফোর্ড হাসপাতাল ঘাট এলাকায় বিগত ৫০ বছর ধরে ফলের আড়তে কর্মরত দিনমজুর ও হকারদের কম খরচে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি আবাসিক ভাসমান হোটেল রয়েছে। একেকটি হোটেলে নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় সিঙ্গেল ও ডাবল ৫৫ থেকে ৬০টি ছোট-বড় রুম রয়েছে। সিঙ্গেল রুমে ভাড়া প্রতিদিন ৮০ টাকা এবং ডাবল রুমের ভাড়া ১২০ টাকা। নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও হকাররা দিনভর বাদামতলী ফলের আড়তে কাজ শেষে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন হকার ও শ্রমিক ভাসমান এসব আবাসিক হোটেলে কম খরচে বসবাস করে তাদের উপার্জিত টাকা তারা গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে পরিবার পরিজনের ভরণপোষণ করে থাকেন।

শরীয়তপুর ও ফরিদপুর আবাসিক ভাসমান হোটেলের মালিক সাত্তার হোসেন এবং মোস্তফা অভিযোগ করেন, ইদানিং স্থানীয় মাদকসেবী বখাটে ও চাঁদাবাজদের কারণে হোটেল মালিক ও হোটেলে বসবাসকারীরা অতিষ্ঠ। তাদের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএকে হোটেল প্রতি ১০ হাজার টাকা নবায়ন ফি, মাসে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ করাসহ সরকারি খাতের সব প্রকার কর দিয়ে থাকেন মালিকরা। তার পরও ঘাট ইজারাদাররা এসব ভাসমান আবাসিক হোটেল থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। তাছাড়া স্থানীয় মাদকসেবী বখাটেরা বিকালে ও রাতে জোর করে হোটেল এসে বিভিন্ন মাদক সেবন করে থাকে। তাদের বাধা দিলে হোটেল মালিক হকারদের বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। হোটেল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম বলেন, দিনের পর দিন এ রকম হয়রানির ও মাদকসেবীদের অত্যাচারের শিকার হলে তারা ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। এতে নিম্ন আয়ের হকার ও দিনমজুররা বিপদে পড়বে। এ ব্যাপার বুড়িগঙ্গা নদীর ভাসমান হোটেল মালিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।