চার মাস পর মিন্টুর খুনি চক্রের হোতা গ্রেফতার
বিশেষ প্রতিনিধি
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন শেখ মিন্টু। অটোরিকশা চালাতেন সাভারের আশুলিয়া এলাকায়। চলতি বছরের ১৩ জুলাই রাতে অটোরিকশা নিয়ে ফিরছিলেন মিন্টু। ১৭০ টাকা ভাড়ায় উঠেন তিন যাত্রী। কিছুদূর যেতেই চালক মিন্টুর সন্দেহ হয়। ভাড়া চাইলে আশুলিয়ার রশিদ মেম্বারের বাড়ির মোড়ে যাত্রীবেশে ওঠা ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায় চক্রের একজন চাকু দিয়ে মিন্টুর গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করলে তিনি নিহত হন। ঘটনার পরদিন ঢাকার আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সম্পূর্ণ ক্লুলেস ঘটনাটির চার মাস পর মিন্টু হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আলী হায়দার ওরফে নাহিদ হাসান ওরফে নাহিদকে সাভার থানা এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই- ঢাকা জেলার একটি টিম। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত একটি সুইচ গিয়ার চাকু ও আসামির একজোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। গতকাল শুক্রবার উত্তরায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।
তিনি জানান, হত্যার ঘটনায় চক্রের মূল আসামিকে ১৯ নভেম্বর রাতে আমরা গ্রেফতার করি। হত্যাকারীরা পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর যাবত্ আশুলিয়া, সাভার এলাকায় ছিনতাই করে আসছিল। তাদের টার্গেটে ছিল অটোরিকশার চালক। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা অস্বাভাবিক ভাড়ায় নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে চালককে মারধর করে টাকাপয়সা ও রিকশার ব্যাটারি খুলে ছিনিয়ে নেয় তারা।
মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, ছিনতাইকৃত এসব ব্যাটারির সেট বিভিন্ন জেলায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করত দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া এই চক্রটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ভোরে ও রাতের বাস থেকে নামা যাত্রীদের ধরে ছিনতাই করে সর্বস্ব লুটে নিত।
পিবিআইআইয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত নাহিদ ছিনতাই চক্রের দলনেতা। তার এই চক্রে অন্তত ২০-২৫ জন সদস্য রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে নাহিদের সঙ্গে আরো দুজন ছিল। তাদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিহত মিন্টু শেখ নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার পানপাড়া গ্রামের সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি সাভারের ছায়াবিথি এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে অটোরিকশা চালাতেন।
