চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো ওয়্যারহাউজ নেই। এই বন্দর ব্যবহারকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা)। সংস্থাটি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে পণ্য ডোর টু ডোর পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
নিজস্ব ওয়্যারহাউজ না থাকায় বিশেষ করে আমদানি পণ্যের ডেলিভারির যাবতীয় কার্যক্রম বাফা সদস্যদের বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ও শেডে সম্পাদন করতে হয়। এতে কনটেইনার ইয়ার্ড এবং শেডসমূহের আশেপাশের একটি বড় জায়গা যানবাহন এবং আমদানি পণ্যে দখল হয়ে থাকে। বন্দরে পণ্য ও কনটেইনার জটের সময় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে বলে বাফা সংশ্লিষ্টরা জানান। ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় বাফার নিজস্ব কাজ চলতে পারে না। বাফার নিজস্ব বন্ডেড ওয়্যারহাউজেরও বিকল্প এটি হতে পারে না।
বাফা সূত্রগুলো জানায়, অন্য দেশের ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের নিজস্ব ওয়্যারহাউজ রয়েছে। কিন্তু বাফার ওয়্যারহাউস না থাকায় তাদের কাজের গতিশীলতাকে বাড়ানো যাচ্ছে না। বন্দর এলাকায় বাফার নিজস্ব ওয়্যারহাউজ গড়ে তোলার ব্যাপারে গত প্রায় এক দশক জুড়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে অনেক বার সহযোগিতা চাওয়া হলেও তেমন সাড়া মেলেনি। অথচ তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি পণ্যের সিংহভাগ এবং এলসিএল কনটেইনারে করে আমদানি পণ্যের শতভাগ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররাই হ্যান্ডলিং করছে।
চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস হাউজের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাফার পরিচালক খায়রুল আলম সুজন ইত্তেফাককে বলেন, বাফাসহ দেশের আমদানি-রপ্তানিসংশ্লিষ্ট কোনো স্টেকহোল্ডারের নিজস্ব কোনো ওয়্যারহাউস নেই। ফলে যেহেতু চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার পুরোটাই বন্ডেড ওয়্যারহাউজ হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত, সেখানেই সব সংস্থাকে কাজ করতে হয়। এতে পণ্য চুরি, খোয়া যাওয়াসহ নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের। ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা রপ্তানি পণ্য প্রাইভেট আইসিডি বা অফডক থেকে কনটেইনার ভর্তি রপ্তানি পণ্য চুক্তি অনুযায়ী বন্দর থেকে বন্দরে আবার কখনো বা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিদেশে সে দেশের ব্যবসায়ীদের ওয়্যারহাউজ পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে একটি কনটেইনারে যদি পাঁচ/সাতটি গন্তব্যের পণ্য থাকে তাহলে কনটেইনার খুলে সেগুলো সাজিয়ে (স্টাফিং আনস্টাফিং) পাঠানোর জন্য নিজস্ব ওয়্যারহাউজই হতে পারে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।
বাফা পরিচালক বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিত্যক্ত এবং বর্তমানে মাঝিদের গুদাম হিসেবে ভাড়া দিয়ে দেওয়া ‘এক্স’ ও ‘ওয়াই’ শেডসহ নির্মাণাধীন বে-টার্মিনালে বাফার ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জায়গা বরাদ্দ প্রদান করার জন্য বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার মো. ফখরুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা যদি বন্দরে সুনির্দিষ্ট জায়গা পান এবং প্রয়োজনীয় শর্তসমূহ পূরণ করেন তাহলে তাদের জন্য ওয়্যারহাউজ স্থাপনের লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ওয়্যারহাউজ স্থাপনে বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের অনুমতি দিচ্ছে কিনা, সে বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে।
