তালায় গ্রেফতার এড়াতে বিষপান নিয়ে ধ্রুমজাল!

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২০, ২২:১৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পল্লিতে দুই নারী আসামি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ঘরের জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ঐ দুই নারী আসামিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতলে ভর্তি করেছে। ঐ দুই নারী হলেন—তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামে মৃত মোজাম শেখের স্ত্রী রুমা বেগম (৫৮) ও তার কন্যা ছন্দা খাতুন (২১)। এ সময় মামলার অন্য দুই আসামি মোজাম শেখের দুই পুত্র শেখ মনিরুজ্জামান (৩২) ও শাহিনুর রহমানকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তালার দাদপুর গ্রামে উক্ত ঘটনা ঘটে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ঐ দুই নারীর স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তালার পাটকেলঘাটা থানার এসআই কৃষ্ণপদ সমাদ্দারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় একটি মারামারি মামলার এজাহার নামীয় আসামি দুই ভাই শেখ মনিরুজ্জামান ও শাহিনুর রহমান বারান্দায় বসে ভাত খাচ্ছিলেন। পুলিশ এ সময় তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় ঘরের মধ্যে তালা দিয়ে মোজাম শেখের স্ত্রী রুমা বেগম ও তার মেয়ে ছন্দা খাতুন গ্রেফতারের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করলে পুলিশ ঘরের জানালা ভেঙে           ঘরে প্রবেশ করে। তখন তারা একসঙ্গে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

তবে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার এস আই কৃষ্ণপদ সমাদ্দার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দাদপুর গ্রামের মৃত মোজাম শেখের বাড়িতে যায় চার আসামিকে ধরতে। এ সময় তারা মনিরুজ্জামান ও তার ভাই শাহিনুর রহমানকে আটক করে। অন্য দুই আসামি মোজাম শেখের স্ত্রী রুমা বেগম ও তার কন্যা ছন্দা খাতুন ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়। এ সময়  আটককৃত ভাই মনিরুজ্জামান তাদের ঘরে থাকা মা-বোনকে বিষপান করতে বলে। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়াতায় জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় তাদের শরীর থেকে বিষের গন্ধ বের হচ্ছিল এবং পাশে বিষের বোতল পড়ে ছিল।

এসআই কৃষ্ণপদ সমাদ্দার জানান, একটি মারামারি মামলায় দুই ভাইকে আটকের পর তারা জানতে পারে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দুই নারী আসামি বিষপান করেছে। তখন ঘরের জানালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার তৈয়েবুর রহমান জানিয়েছেন, ঐ দুই রোগী বিষ পান করেছে বলে জানালেও তাদের মধ্যে বিষপানের তেমন কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিষের গন্ধ ছিল। পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ওয়ার্হেদ মোর্শেদ জানিয়েছেন তিনি ছুটিতে আছেন।