ছুটির দিনে বিকালে একপশলা ঝিরিঝিরি বৃষ্টির রেশ কাটতে না কাটতেই শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার বাইরের টিকিট কাউন্টারের সামনে দর্শকদের দীর্ঘ সারি। উদ্দেশ্য, পদাতিক নাট্য সংসদের নাটক দেখে বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যাটিকে উপভোগ্য করে তোলা। করোনার ধকল কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর নতুন নাটক মঞ্চে এনেছে পদাতিক। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হয় দলটির নতুন প্রযোজনার নাটক ‘পাকে বিপাকে’র উদ্বোধনী মঞ্চায়ন। এটি ছিল পদাতিক নাট্য সংসদের ৪৩তম প্রযোজনা। এক জোতদার ও গ্রামের সহজ সরল যুবকের জয়-পরাজয়ের গল্প নিয়ে বিন্যস্ত হয়েছে নাটকটির কাহিনি। মনোজ মিত্র রচিত ও সঞ্জীব কুমার দে নির্দেশিত এই নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—শাখাওয়াত হোসেন শিমুল, ইমরান খান, এখলাসুর প্রান্ত, জিনাত ইসলাম প্রমুখ। অন্যদিকে একই সময়ে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়িত হয় ঢাকা থিয়েটারের নাটক ‘একটি লৌকিক অথবা অলৌকিক স্টিমার’।
এছাড়া ওয়াইজঘাটের বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা) মিলনায়তনে রঙ্গপীঠ নাট্যদলের মাসব্যাপী নাট্যোত্সবের সূচনা হলো। একদল তরুণ নাট্যকর্মীর প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে রঙ্গপীঠ নাট্যদল। সময়ের সোতোধারায় ২০ বছর পার করে ২১ বছরে পদার্পণ করেছে দলটি। আর এই ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘সৃজনে নাট্যভুবনে স্বজন মেলা’ স্লোগানে শুক্রবার থেকে শুরু হলো মাসব্যাপী নাট্যোত্সব। উত্সবে অংশ নিচ্ছে ১০টি নাট্যদল। ওয়াইজঘাট থেকে শুরু হওয়া উত্সবটি ছড়িয়ে পড়বে ঢাকার নানা প্রান্তে। প্রতি শুক্রবার হবে উত্সবের নাট্য প্রদর্শনী।
প্রধান অতিথি হিসেবে উত্সব উদ্বোধন করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন জোটের সহসভাপতি ঝুনা চৌধুরী, পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মেদ গিয়াস, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক তপন হাফিজ, বাফার সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান ও বাংলাদেশ শিশু সংগঠন ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন রঙ্গপীঠ নাট্যদলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ লিপন। সভাপতিত্ব করবেন রঙ্গপীঠ নাট্যদলের সভাপতি গোলাম জিলানী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রঙ্গপীঠ নাট্যদলের সেরা নাট্যকর্মী সম্মাননা প্রদান করা হয় নাট্যকার ও নির্দেশক সম্পাদক সাজ্জাদ লিপনকে। উদ্বোধনী আলোচনা শেষে ১৯৪৭ থেকে একাত্তরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ১০ মিনিটের কোরিওগ্রাফি উপস্থাপন করেন রঙ্গপীঠের নাট্যকর্মীরা। কোরিওগ্রাফিটি রচনার পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছেন শাম চন্দ্র ঘোষ। অনুষ্ঠানের ছিল নৃত্য পরিবেশনা। মুদ্রার সঙ্গে অভিব্যক্তির নাচ করেন মৌসুমী অধিকারী দোলা ও শিশু শিল্পী জান্নাতুল ফেরদৌস গুনাইবা।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে ছিল তিনটি নাট্যদলের নাট্য প্রদর্শনী। মঞ্চস্থ প্রাচ্যনাটের নতুন নাটক ‘হান্ড্রেড বাই হান্ড্রেড’। মহামারির সময়ে পোশাককর্মীদের জীবন ও জীবিকার চিত্র তুলে ধরা প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন সাইফুল জার্নাল। এরপর মঞ্চস্থ হয় বাতিঘরের নাটক ‘গুজ বাম্প’। প্রযোজনাটি রচনার পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছেন মুক্ত নীল। খেয়ালী নাট্যগোষ্ঠী পরিবেশিত নাটকের শিরোনাম ছিল ‘বটতলার পাগল’। প্রযোজনাটির রচনার ও নির্দেশনায় ছিলেন এ কে এ কবির। মঞ্চস্থ হয় ইমরান হোসেন ইমু রচিত ও নির্দেশিত উত্স নাট্যদলের নাটক ‘পতাকায় বঙ্গবন্ধু’।
আগামী শুক্রবার রঙ্গপীঠের উত্সবটি অনুষ্ঠিত হবে দনিয়া স্টুডিও থিয়েটারে। এরপর পর্যায়ক্রমে দনিয়ার মাসুদ মঞ্চ ও শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে ছড়িয়ে যাবে উত্সব। নাট্যোত্সবে অংশ নেওয়া নাট্যদলগুলো হচ্ছে—নাট্যযোদ্ধা, বাঙলা নাট্যদল, সায়াহ্নিকা থিয়েটার, বৃত্ত নাট্যদল, রঙ্গপীঠ নাট্যদল, প্রাচ্যনাট, বাতিঘর, উত্স নাট্যদল, খেয়ালী নাট্যগোষ্ঠী ও ঢাকা রঙ্গপীঠ।
