প্রকৃতির অপূর্ব শোভায় শোভিত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ ভোলার মধ্যস্থান। এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। নদী তীরবর্তী লোকজন বেশিরভাগ মাছ ধরার কাজে জড়িত।
আজকে যে ভূখণ্ডকে লালমোহন বলে জানি, তার নামকরণের পেছনে একটি গল্প প্রচলিত আছে। যা প্রবীণদের মুখে শোনা যায়। লালমোহনের পূর্ব নাম ছিল মেহেরগঞ্জ। এ অঞ্চলে কোনো হাট-বাজার ছিল না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীপথে অনেক দূরদূরান্তে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে হতো। মানুষের এই কষ্ট দেখে ১৯০৪ সালে এখানকার একজন সমাজসেবক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মেহের আলী পাটোয়ারী নিজস্ব ভূমির ওপর ‘মেহেরগঞ্জ’ নামে একটি হাট বা বাজার বসান। ফলে এখানে নিয়মিত বাজার বসে, লোকসমাগম হতে থাকে এবং বেচাকেনা বাড়তে থাকে। এতে এ এলাকা মেহেরগঞ্জ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন কাগজপত্রে মেহেরগঞ্জ লেখা শুরু হয়ে যায়। মেহেরগঞ্জ নামে একটি মৌজার নামকরণ করা হয়। লালমোহন কুণ্ড নামে একজন তহশিলদার সুকৌশলে মেহেরগঞ্জ নামের পাশে কাগজপত্রে লালমোহন লিখে দেন এবং এ নামে একটি মৌজা সৃষ্টি করেন। কাগজপত্রে লালমোহন ছাপা হয়ে যায়। এভাবে মেহেরগঞ্জ পরিবর্তিত হয়ে লালমোহন হয়।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৯ সালে লালমোহন থানা গঠিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৩ সালের ১৫ এপ্রিল লালমোহন থানা রূপান্তর হয় উপজেলায়। ১৯৯০ সালের ৯ ডিসেম্বর লালমোহন হয় পৌরসভা। লালমোহন উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। কয়েকটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ৫৫টি মৌজা ও ৭৪টি গ্রাম রয়েছে। নদীমাতৃক অঞ্চল ভোলার লালমোহন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল।
নুরুল আমিন

