মশার উপদ্রব ও দূষণ বাড়ছে
আবদুল গাফ্ফার সুমন, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
মনোহরগঞ্জের খালগুলো কচুরিপানায় ভরে গিয়ে পানি দূষিত হয়ে বাড়ছে রোগবালাই। মশার উপদ্রবে খালপাড়ের বাসিন্দাসহ হাজার হাজার মানুষ অতিষ্ঠ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডাকাতিয়া নদীর শাখা নদনা, ঘাঘরিয়া, কার্জন ও লত্সর-দাঁড়াচৌ খালসহ বিভিন্ন খাল কচুরিপানায় ভরে বেহাল অবস্থা হয়েছে। কয়েক জায়গায় ঠাসা কচুরিপানার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা যায়। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় মশা বেড়েই চলেছে। কয়েক বছর ধরে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
লত্সর গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন, আবুল কাশেমসহ অনেকেই জানান, সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রবে খালপাড়ে অবস্থিত ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে বসা যায় না। দিনের আলোতেও মশার উপদ্রব কোনো অংশেই কম নয়। তারা জানান, মশা তাড়াতে রাতে গোয়ালঘরেও কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও মশার উপদ্রব থেকে নিস্তার পাওয়া যায় না। তাছাড়া এক সময় এ খালগুলো দিয়ে ইঞ্জিনচালিত বড় বড় পণ্যবাহী নৌকা ও ট্রলার এ এলাকায় প্রবেশ করত। বর্তমানে দখল ও দূষণে নদীপথ সরু ও কচুরিপানা থাকায় এ এলাকায় নৌপথের বাণিজ্য এখন আর হয় না। খালগুলোর প্রবেশদ্বারসহ খাল জুড়ে কচুরিপানা থাকায় এসব খালে পণ্যবাহী ছোট ট্রলার, নৌকা প্রবেশেও সৃষ্টি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ এলাকার অন্তত ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা খালগুলোতে বারা বাঁধ (বাঁশের তৈরি বেড়া), বেয়াল জাল (মাছ ধরার এক প্রকার জাল) দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখায় কচুরিপানা অপসারণে বিঘ্ন ঘটার কথা জানান। ফলে বছরের পর বছর হয় না কচুরিপানা অপসারণ। দিনে দিনে তা বৃদ্ধি পেয়ে পানি দূষিত হয়ে দেখা দিয়েছে নানা রোগবালাই। বছর জুড়ে খালভর্তি কচুরিপানা থাকায় পুঁটি, টেংরা, পাবদা, শিং, কই, শোল, গজার, বোয়াল, টাকি মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, এ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ হচ্ছে কচুরিপানা ও মাছ ধরার জন্য খালে এলোপাতাড়ি বাঁধ দিয়ে রাখা। শিগিগর জনগণকে সম্পৃক্ত করে মশা নিধন ও কচুরিপানা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।
