সেতু আছে সড়ক নাই

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৪

চলাচল ব্যাহত

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের কাল্টার মাল্লি নামক স্থানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন ব্রিজ নির্মাণের চার বছর পেরিয়ে গেলেও মূল সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে ঐ এলাকার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি কালাপাইকারের বাড়ি থেকে নিতাই ইউনিয়ন যাওয়ার রাস্তায় কাল্টার মাল্লি নামক স্থানে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।

শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটি নির্মাণের পর এর দুপাশে সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি ব্রিজের দুপাশে মূল সড়ক দেখা যায়নি।

বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি কালাপাইকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, সাকিনুর হকসহ অনেকে বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের পর আমরা ভেবেছিলাম খুব সহজে এবং অনায়াশে উত্পাদিত কৃষিপণ্য ব্রিজের ওপর দিয়ে ট্রলি কিংবা ট্রাকে করে বাড়িতে নিয়ে আসতে পারব। এজন্য আমরা এলাকাবাসী নিজেরাই ব্রিজের দুই পাশে কিছু মাটি ফেলেছি। কিন্তু ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতের জন্য মূল সড়কটি নির্মাণ না করায় এটি কোনো কাজে আসছে না। বাহাগিলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শাহ দুলু বলেন, নিতাই ইউনিয়নের পানিয়াল পুকুর হয়ে কালাপাইকারের পাড়ার ভেতর দিয়ে খুব সহজে কিশোরগঞ্জ বাজার এবং কালাপাইকারের পাড়া দিয়ে কাল্টার মাল্লি পাড় হয়ে নিতাই মুশরুত, কাচারীর হাট, পাগলার বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করা যেত। কিন্তু রেকর্ডীয় রাস্তাটি ৩০ বছর ধরে সংস্কার না করার কারণে সড়কটি দখল হয়ে গেছে। সড়কটি দখলমুক্ত করে সংস্কারের ব্যবস্থা করলে ব্রিজটি এলাকাবাসীর কাজে আসত। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে রেকর্ডীয় রাস্তাটি দখলমুক্ত করে সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করব।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু হাসনাত সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমি ঐ এলাকায় গিয়ে পরিদর্শন করে সড়কের বর্তমান অবস্থা দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। যাতে ব্রিজটির সুফল এলাকাবাসী ভোগ করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোকসানা বেগম বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।