প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস ও কর্মপ্রচেষ্টা

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২০, ২১:৩২

বাংলাদেশ স্বাধীন হইয়াছে অর্ধশত বত্সর হইতে চলিল। এই সময়ের মধ্যে দেশে অবকাঠামোগত যে উন্নয়ন হইয়াছে তাহা অনস্বীকার্য। ক্ষেত্রবিশেষে অবিশ্বাস্যও। যেই এলাকায় একটি সড়ক ছিল না, মানুষের আশা ছিল একটি সরু রাস্তা হইবে, সেই স্থানে শুধু সরু নহে, জালের মতো বিছাইয়া পড়িয়াছে রাস্তা, দীর্ঘ সড়ক। নদীমাতৃক দেশের যেই সকল অঞ্চলে খাল ও নদীর সংখ্যা অধিক; সেই অঞ্চলে গড়িয়া উঠিয়াছে অগণিত ব্রিজ, কালভার্ট। তথ্যের দিক দিয়া বিবেচনা করিলে মানুষের হাতের নিকট পৌঁছাইয়া গিয়াছে তথ্যভান্ডার। শুধু দেশের নহে, বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পৌঁছাইয়া যাইতেছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে; কিন্তু তাহার পরও আমরা সার্বিক বিষয়ে যথেষ্ট উন্নত হইয়াছি বলা যাইবে কি? যেই পরিমাণ অবকাঠামো উন্নয়ন হইয়াছে, সেই হারে বাড়ে নাই মানুষের সচেতনতা। বরং উহা রহিয়া গিয়াছে অর্ধশতাব্দী পূর্বের মতোই। আমরা লক্ষ করিলেই দেখিতে পাই, বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় লইয়া মানুষ বিবাদে জড়াইয়া পড়িতেছে। সেই সকল ক্ষেত্রে সঠিক আইনের পথও অনুসরণ করিতে অনীহা ও অসচেতনতা বিদ্যমান। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেই সম্পদ লইয়া দুই পক্ষ ঝগড়াঝাঁটিতে জড়াইয়া পড়িয়াছে, তাহার সঠিক কাগজপত্রও উপস্থাপন করিতে অপারগ। মানুষের মধ্যে সেই রকম আত্মবিশ্বাসও জন্মিতেছে না যে নিজের পায়ে ভর করিয়া, নিজে প্রচেষ্টা চালাইয়া জীবন পরিবর্তন করিবে। অনেক মানুষের মধ্যে বিনা পরিশ্রমে উপার্জনের প্রবণতা তীব্র লক্ষ করা যায়। অথচ ধর্মের দিক দিয়া বিচার করিলেও আমরা দেখিতে পাই, মানুষকে বারবার আত্মনির্ভরশীলতার কথা বলা হইয়াছে। পবিত্র কোরআন মজিদে স্পষ্টতই বলা হইয়াছে, ‘কোনো জাতি নিজের অবস্থান যতক্ষণ পরিবর্তনে সচেষ্ট না হয়, আল্লাহ তাহাদের অবস্থার পরিবর্তন করেন না (সুরা রা’দ, ১১)। মুসলিম শরিফে আবু হোরায়রা হইতে বর্ণিত আছে যে, রসুলে আকরাম (সা.) বলিয়াছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের চেহারা কিংবা সম্পদ দেখেন না, তিনি দেখেন তোমাদের নিয়ত ও কাজ।’ এইরূপ অসংখ্য শিক্ষা আমাদের সম্মুখে থাকা সত্ত্বেও আমরা তাহা উপেক্ষা করিয়া থাকি।

অতএব, নিয়ত ঠিক রাখিতে হইবে এবং কাজ করিতে হইবে। তাহা হইলেই ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব। কেবল ভাগ্যকে দোষী করিয়া সাহায্যের হাত প্রসারিত করা কোনো কাজের কথা নহে। বর্তমান বাংলাদেশে কেহ যদি নিষ্ঠার সহিত কাজ করিতে চাহে, তাহা হইলে সহায়তার জন্য আগাইয়া আসিবার লোকের অভাব হয় না। অনেক সুযোগও তৈরি হইয়া থাকে। প্রশাসনের যেই স্তরেই হউক, যদি কেহ সঠিক কাগজপত্রসহ উপস্থিত হন তাহা হইলে প্রশাসনকেও তাহার সহায়তায় কাজ করিতে হয়। হউক তাহা কোনো ঋণের আবেদন অথবা কাহারো নিজস্ব জমি ছাড়াইয়া নেওয়া। মুশকিল হইল, বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অনেকের কাজ ‘জায়েজ’ করিবার প্রচেষ্টা দেখিতে পাওয়া যায়। সুতরাং মানুষকে সচেতন হইতে হইবে। হক উপার্জনের প্রতি মনোযোগী হইতে হইবে। আর এই সকল বিষয়ে মানুষকে জাগ্রত করিবার একটি দায় বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদেরও রহিয়াছে। তাহারা যদি মানুষকে বৈধ পথে পা বাড়াইবার পরামর্শ দেন, অবৈধ পথে হাঁটিবার প্রশ্রয় না দেন, তাহা হইলে অনেকটা পরিস্থিতি পালটাইবে বলিয়া আমাদের বিশ্বাস।