সপ্তাহব্যাপী ইলিশ, পর্যটন ও উন্নয়ন উত্সব

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫৩

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীতে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ইলিশ ও পর্যটন উত্সব। ‘পদক্ষেপ বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ঢাকা, চাঁদপুর, সিলেট, খুলনা ও কক্সবাজারে সপ্তাহব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক ইলিশ, পর্যটন ও উন্নয়ন উত্সব। অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আর ইলিশসহ মত্স্য উত্পাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আজ বিশ্ব পরিমণ্ডলে স্বীকৃত। দেশের এই গর্বের বিভিন্ন খাতকে তুলে ধরতেই আয়োজন করা হয়েছে এ উত্সবের।

গতকাল দিলকুশার হোটেল পূর্বাণীতে এ উত্সবের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এতে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ও উত্সব সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আদিবা আনজুম মিতা এমপি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার অরুণ কুমার বিশ্বাস প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পদক্ষেপ বাংলাদেশের সভাপতি বাদল চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুন নিসা। অনুষ্ঠান শুরু হয় উত্সব উপলক্ষ্যে দেওয়া রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বাণী পাঠের মধ্য দিয়ে। রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন সাবেক সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন ছড়াকার আসলাম সানী।

কে এম খালিদ বলেন, করোনার এই মহামারিকালেও এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের গর্বের বিষয় হচ্ছে জাতীয় মাছ ইলিশ আর পর্যটন হচ্ছে সম্ভাবনাময় খাত। দেশের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত। মানুষের সামনে দেশের গর্বের বিষয়গুলো এবং আয়ের খাতকে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন আরো বেশি প্রয়োজন। পদক্ষেপ বাংলাদেশ সেই কাজটি এই প্রতিকূল সময়েও নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছে।

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পর্যটনের উন্নয়নের লক্ষ্যে যে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে তাতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। বিশ্ব মহামারির ক্রান্তিকালীন সময়কে উপেক্ষা করে এই উত্সবে অংশ নিয়ে পর্যটনকে উত্সাহিত করতে সবাই সচেষ্ট হবে এটাই প্রত্যাশা।

বাদল চৌধুরী বলেন, সরকারের সময়োচিত পরিকল্পনার কারণে ইলিশের উত্পাদন বিস্ময়করভাবে বেড়েছে। যা মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করেছে। এইভাবে পর্যটন খাত নিয়েও পরিকল্পনা জরুরি। তাহলে মানুষের কর্মসংস্থান যেমন সৃষ্টি হবে তেমনি বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। সে লক্ষ্যেই আমাদের এ উত্সবের আয়োজন।

আজ রবিবার উত্সবের দ্বিতীয় দিনেও হোটেল পূর্বাণীতে রয়েছে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। সভাপতিত্ব করবেন পদক্ষেপ বাংলাদেশ-এর উপদেষ্টা শ্যামসুন্দর সিকদার।